উন্নত চিকিৎসা পেলেই শিকল থেকে মুক্তি পেতে পারেন সুলতানা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সুভারকুটি গ্রামের মৃত ছকমালের মেয়ে সুলতানা বেগম ১২ বছর আগে হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তখন থেকেই তার পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়।

অর্থের অভাবে ডাক্তার দেখাতে না পেরে নেন কবিরাজি চিকিৎসা। তাতেও তিনি সুস্থ হননি। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে অযত্ন আর অবহেলায় ধীরে আরও মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ কারণে স্বামী মেহের জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

সুলতানার ভাই পনির উদ্দিন বলেন, ‘সুযোগ পেলেই সুলতানা বাড়ির বাইরে যাবার চেষ্টা করে। যার কারণে পায়ে শিকল বাঁধা হয়েছে। অর্থের অভাবে সুলতানার চিকিৎসা করতে পারছি না। এছাড়া চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি।’

প্রতিবেশী আকলিমা বলেন, ‘সুলতানা ও আমার মেয়ে এক সঙ্গে লেখাপড়া করেছিল। ছাত্রী হিসেবে সে ভালো ছিল। বিয়ে হওয়ার পরেই তার মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার স্বামী বাধ্য হয়েই তাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। তার ভাইয়েরা বাইর কাজ করেন। তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মানুষজন না থাকায় তার পায়ে শিকল লাগিয়ে রাখা হয়েছে।’

jagonews24

এলাকার স-মিল মালিক বেলাল রহমান বলেন, ‘মেয়েটির শুধু উন্নত চিকিৎসার অভাবে এই পরিণতি। যদি তার উন্নত চিকিৎসা করা যায় আমি আশাবাদী সে সুস্থ হয়ে উঠবে। কারণ তার এ সমস্যা জন্মগত নয়। সুলতানার চিকিৎসার জন্য আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতার কামনা করছি।’

৮ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রিয়াজুল হক বলেন, ‘সুলতানার বাবা মা মারা গেছেন। ভাইয়েরা দেখাশোনা করেন। তারা তার চিকিৎসা চালিয়েছিলেন। কিন্তু অর্থর অভাবে বেশিদিন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেননি। তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো বা সে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সুলতানার পরিবার যদি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান তাহলে সরকারিভাবে তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হবে।’

মো. মাসুদ রানা/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]