মহাসড়কের সরকারি জমি দখলদারদের কবলে, বন্ধ ৬০০ কোটির প্রকল্প

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৮:১১ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২১

কুষ্টিয়ায় মহাসড়কের সরকারি জমি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে না পারার কারণে থেমে গেছে ফোর লেন সংযুক্ত প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণ কাজ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধাগ্রস্তসহ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ড্রেনের জন্য খননকৃত গর্ত। এলাকাসীর অভিযোগ, মহাসড়কের নিজস্ব জায়গা প্রভাবশালী দখলদারদের ছেড়ে দিয়ে নির্মাণাধীন ফোর লেন প্রকল্পের ড্রেন নির্মাণে অতিরিক্ত জমি পূরণ করতে গিয়ে নতুন করে বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে ঢুকে পড়েছে সড়ক বিভাগ। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রতিকার চেয়ে কেউ কেউ আইনের আশ্রয়ও নিয়েছেন।

সৃষ্ট এই জটিলতার সত্যতা স্বীকার করে সড়ক বিভাগ বলছে, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নসহ ৫৭৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে নির্মাণাধীন ‘ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭০৪) এর কুষ্টিয়া শহরাংশে ৪-লেনে উন্নীতকরণসহ অবশিষ্টাংশ যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি শিগগরিই সব সমস্যা দূর করে বন্ধ হওয়া নির্মাণকাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে।

jagonews24

স্থানীয় কাউন্সিলর এজাজুল হাকিম জাগো নিউজকে বলেন, গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ইতোমধ্যে শহরে বাইপাস সড়ক নির্মাণ শেষে দূরপাল্লার সকল যানবাহন চলাচলে ব্যবহৃত হচ্ছে সড়কটি। এখন চলছে শহরাংশের মজমপুর গেটের শূন্য পয়েন্ট থেকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কের বটতৈল পর্যন্ত চার কিলোমিটার ড্রেনসহ ফোর লেন রাস্তা সম্প্রসারণ ও উন্নীতকরণ কাজ। তিনি দাবি করেন, কাজটি ঠিকঠাকভাবেই চলছিল। কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে সড়ক বিভাগের পক্ষপাতিত্বে সৃষ্ট জটিলতায় আটকে গেছে নির্মাণকাজ। এর ফলে ড্রেনের গর্তে পড়ে কেউ না কেউ আহত হওয়ার ঘটনা নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে।

স্থানীয় এক গ্যারেজ মালিক আব্দুল খালেক। তার অভিযোগ, উন্নয়ন কাজটি হওয়ার কথা বিদ্যমান রাস্তার মাঝখান থেকে উভয় পাশের সমান জমি ব্যবহার করে। এখানে সড়ক বিভাগের নিজস্ব জমিও আছে। অথচ প্রভাবশালীদের দখলের কারণে জায়গা কমে গেছে। এখন নতুন করে এলাকাবাসীর জমি ও অবকাঠামোর ক্ষতি করে নিচ্ছে সড়ক বিভাগ। এতে আমাদের মতো অসংখ্য মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম বিপদের মুখে পড়বে।

সদর উপজেলার চৌড়হাসের বাসিন্দা মোস্তফা মনোয়ার অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ কাউকে সুবিধা দিতে গিয়ে এই জটিলতার সৃষ্টি করেছে সড়ক বিভাগ। রাস্তা সম্প্রসারণে পর্যাপ্ত জায়গাও আছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। অথচ সড়ক বিভাগের জায়গা অন্যের দখলে ছেড়ে দিয়ে আমাদের জমিতে ড্রেনের জন্য গর্ত খুঁড়তে লাল পতাকা লাগিয়েছে। আমিও আইনের আশ্রয় নিয়ে এর সুরাহা করতে চাই।

স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া ইয়াসমিন বিদ্যমান ভোগান্তির নিরসন দাবি করে বলেন, সড়ক বিভাগ যেন দ্রুততম সময়ে বন্ধ হওয়া ড্রেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সেজন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

jagonews24

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই নির্মাণকাজে সংশ্লিষ্ট উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, কুষ্টিয়া মজমপুর গেট জিরো পয়েন্ট থেকে বটতৈল পর্যন্ত চার কিলোমিটার ডাবল লেনের সড়কটি ফোর লেনে উন্নীতকরণ, রাস্তার মাঝখানে বিভাজন ও উভয় পাশ দিয়ে ১ দশমিক ৮৩ মিটার উচ্চতা, ১ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ কাজটি সম্পন্ন করতে নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী ১৪১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি চলছিলও। কিন্তু হঠাৎ করে মামলাজনিত আইনি জটিলতার কারণে নির্মাণকাজটি এখন বন্ধ আছে।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনি জটিলতায় মজমপুর গেট শূন্য পয়েন্ট থেকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের উভয়পাশে নির্মাণাধীন ড্রেনের কাজটি বন্ধ আছে। দ্রুত কাজটি শেষ করতে সড়ক বিভাগ জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে। আশা করছি কার্যচুক্তিকাল ধরে আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করতে পারব।’

আল-মামুন সাগর/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।