ভিক্ষুক মাকে সেলাই মেশিন উপহার
এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চলে ববিতা রাণী দাসের। এই নারীকে কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবীরা।
শনিবার (১ মে) শ্রমিক দিবসে দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাঞ্চানগর এলাকায় ববিতা রাণীর ভাড়া বাসায় গিয়ে সেলাই মেশিনটি তুলে দেয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেঘ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ফাহাদ বিন বেলায়েত, বিকেবি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইসমাইল হোসেন সুজন, স্বেচ্ছাসেবী রিয়াদ হোসেন, রাজীব হোসেন রাজু ও সাইফুল ইসলাম।
প্রায় ৪ বছর আগে ববিতা রাণীসহ সন্তানদের ছেড়ে তার স্বামী চলে যান। এরপর থেকেই ববিতা ভিক্ষা করে বাসা ভাড়া ও সন্তানদের লালন-পালন করে আসছেন। কিশোরী মেয়েও তার সঙ্গে ভিক্ষা করত। এটা দেখে স্বেচ্ছাসেবক ফাহাদ বিন বেলায়েত ওই কিশোরীকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। একই সঙ্গে ববিতার ভিক্ষাবৃত্তি কমাতে মানুষের বাড়িতে কাজ ও শাকসবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

কিন্তু সংসারের ব্যয় বেশি হওয়ায় ববিতার ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হয়নি। সবশেষ দর্জির কাজ জানার কথা বলে স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে একটি সেলাই মেশিন দাবি করেন ববিতা। সেলাই মেশিন পেলে তিনি আর ভিক্ষা করবে না বলে ওয়াদা করেন। সম্প্রতি ভাষার প্রদীপ সংগঠনের একটি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ববিতাকে অতিথি করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবী ইসমাইল হোসেন সুজন তাকে সেলাই মেশিন উপহার দিবেন বলে জানান।
ববিতার রাণী দাস বলেন, মানুষের বাসায় কাজ করে ছেলে-মেয়েদের ঠিকমতো খাবার জুটতো না। এজন্য ভিক্ষা করতে হতো। সেলাই মেশিনটি পেয়েছি। আর ভিক্ষা করব না। মানুষের জামা সেলাই করে ছেলে-মেয়েদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করব।
ইসমাইল হোসেন সুজন জানান, ববিতা রাণী বলেছিল সেলাই মেশিন পেলে তিনি ভিক্ষা করা বন্ধ করে দেবেন। একটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই তাকে সেলাই মেশিনটি দেয়া হয়েছে। আশা করি দর্জির কাজের উপার্জন দিয়ে সুন্দরভাবে সংসার চালাতে পারবেন।
ফাহাদ বিন বেলায়েত বলেন, ববিতাকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছি। এজন্য তাকে সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করে তিনি দর্জির কাজে মন দেবেন। আশপাশের মানুষকে তার কাছে জামা সেলাই করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
কাজল কায়েস/জেডএইচ/এএসএম