ছেলের হাতে সৎ মা খুন, মামলায় আসামি মেম্বারও
পারিবারিক কলহের জেরে সৎ ছেলের কোদালের আঘাতে গত ২৬ এপ্রিল আহত হন কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের পূর্ব গোদার পাড়া গ্রামের মুর্শিদা বেগম। শনিবার (১ মে) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় রোববার (২ মে) নিহতের ভাই জহির উদ্দীন বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে রয়েছেন কালারমারছড়ার ৯নং ইউপি সদস্য আমির হোসেনর নামও।
তবে আমির হোসেন ও স্থানীয়দের দাবি- ঘটনার সময় মেম্বার ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানতেনও না। তবুও তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কালারমারছড়ার পূর্বগোদার পাড়া পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা আক্তার হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী মুর্শিদা বেগমের সঙ্গে গত ২৬ এপ্রিল তার সৎ ছেলে আব্দুল হান্নানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হান্নান কোদাল নিয়ে সৎ মা মুর্শিদা বেগমকে আঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। ৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তিনি মারা যান। তবে মামলা বাদী নিহতের ভাই জহির স্থানীয় ইউপি মেম্বার আমির হোসেনসহ ৮ জনকে আসামি করে।
নিহতের প্রতিবেশী মিরাজ, হালিমা, বাপ্পী জানান, সংসারে ঝামেলায় নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। সেখানে বাইরের কেউ ছিল না। তবুও বাইরের লোকজনের নামে মামলা দিয়েছে। বিষয়টিকে তারা রহস্যজনক বলছেন।
ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, আমার ওর্য়াড অনেক বড়। এখানে সাড়ে ৬ হাজার ভোটার। বেশকিছু পাহাড়ি এলাকাও রয়েছে। যেখানে মা-ছেলের সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে, তা আমার বাড়ি থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে। রাতে সংগঠিত ঘটনার ব্যাপারে পরের দিন বাজারে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে শুনেছি। এই মামলায় আমাকে আসামি করা রাজনৈতিক শত্রুতা ছাড়া আর কিছু নয়। নিহত পরিবারের কারও সঙ্গে আমার আত্মীয়তা বা শত্রুতাও নেই। নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্ত হলে বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাই জানান, ‘৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হান্নানকে গ্রেফতারে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না।’
সায়ীদ আলমগীর/এএএইচ