তুহীন বিশ্বাসের কবিতা

বিষাদের পেন্ডুলাম এবং অন্যান্য

সাহিত্য ডেস্ক
সাহিত্য ডেস্ক সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২২ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬
ফাইল ছবি

বিষাদের পেন্ডুলাম

বিপদে বিষাদে পেন্ডুলামে নিষ্পেষিত সময়
পূর্ণচন্দ্রের সুরধ্বনি স্তব্ধ মেঘাচ্ছন্ন আকাশে,
হতবিহ্বল হয়ে যায় নির্মাণাধীন জীবন চিত্র
আড়চোখে তাকিয়ে শোধ তোলে প্রকৌশলী।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়ে বিশ্বাস অন্ধকারে
অমাবস্যার মধ্যরাতে নিখোঁজ প্রতিশ্রুতি,
আর অসহায়ত্ব বন্দী হয় হতাশার জালে
একাকিত্ব বরণ করে একলা পথে হাঁটি।

****

নৈঃশব্দ্যে নিঃস্ব জীবন

নৈঃশব্দ্যে নিঃস্ব জীবন মুখ থুবড়ে পড়ে
একাকিত্বের যন্ত্রণা নিঃসৃত হয় মস্তিষ্কে,
চাঁদের আলোও তিক্ততা ছড়ায় সর্বাঙ্গে
নিস্তব্ধতার দংশনে ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত।

আমার কবিতাগুলো আজ প্রতিকূলচারী
বরফ আস্তরণে জমাটবদ্ধ কলমের কালি,
শব্দগুলো বারংবার হোঁচট খায় সভ্যতায়
আদর্শের পঙক্তিমালা কলঙ্কিত হয় সস্তায়।

মানবিক হও সত্যবাদী মোহাম্মদের মতো
আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করো মনে পাপ যতো।

****

ধূলিঝড়

শূন্য ক্যানভাস বারবার হোঁচট খায় শূন্যতায়
পরিকল্পিত কষ্টগুলো ক্ষত-বিক্ষত করে হৃদয়,
আমিহীন তুমিটা বড্ড অদ্ভুত উচ্ছ্বাসে অচেনা
আকাশ যে রঙের হোক দোষ খোঁজে বাতাসে।

রক্তক্ষরণ দেখে হেসে লুটিয়ে পড়ছে অভিনয়
অবহেলার আচ্ছাদনে মিশে যায় স্নিগ্ধ শিশির,
কিছু স্বপ্ন অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়, কিছু থাকে কোমায়
আমি তাকিয়ে থাকি ধূলিঝড় কুণ্ডুলির দিকে।

****

অন্তর্দৃষ্টির অন্তর্দাহ

হয়তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া;
কিন্তু আমি সমুদ্রে আমি গভীরতা খুঁজি,
হাসির রেখায় আঁকা করুণ চিত্রকল্প দেখি
অণুবীক্ষণ যন্ত্রে রক্তের দাগ দেখতে পাই।

ভুলে নতুন স্বপ্নগুলো যন্ত্রণায় ছটফট করে
দূরে দাঁড়িয়ে হতাশা সহাস্যে হাততালি দেয়,
আমি নেতিয়ে পড়ি; মুহূর্তেই ক্লান্ত হয়ে যাই
হয়তো স্বাভাবিকতা মেনে নিলে-
অন্তর্দৃষ্টির অন্তর্দাহ শীতল অনুভব করতো।

মনে হচ্ছে দুর্বল চিত্তের মানুষগুলো এমন হয়
এ ক্ষেত্রে কোনো কারণেই উদার নই আমি;
ক্ষুদ্র মানসিকতার ধারক-বাহক হোক অস্তিত্ব
তবু এক চিলতে মেঘের আড়ালে না হারায়।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।