‘নিজ চোখে দেখেছি মেয়ে ছেলেতে পরিণত হচ্ছে’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ০৩ মে ২০২১

নওগাঁর সাপাহারে লিঙ্গ পরিবর্তন হয়ে মেয়ে থেকে ছেলে হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। তার নাম টুম্পা কর্মকার।

রাজকুমার কর্মকার ও পুষ্প রানীর বড় মেয়ে সে। তার বাড়ি উপজেলার পাতাড়ী ইউনিয়নের শিমুলডাঙ্গা রামাশ্রম গ্রামে।

ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর রোববার (২ মে) সকাল থেকে তাদের বাড়িতে কৌতূহলী জনতা ভিড় করছে।

স্থানীয় ও পারিবার সূত্রে জানা যায়, টুম্পার বয়স ১২ বছর। সে স্থানীয় বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। তাদের পরিবার দরিদ্র। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা ও বাবা প্রতিবন্ধী হওয়ায় টুম্পা বিভিন্ন কাজকর্ম করে পরিবারকে সহযোগিতা করত। গত ১০-১২ দিন থেকে টুম্পা তার শারীরিক ও কণ্ঠের পরিবর্তন লক্ষ্য করে। তার পরিবার ধারণা করছিল পরিশ্রমের কারণে এমনটা হতে পারে। টুম্পার শারীরিক পরিবর্তন অনেক আগে থেকে হয়ে আসলেও পরিবার কোনো গুরুত্ব দেয়নি। সম্প্রতি তার কণ্ঠ ও কথা অনেকটাই পরিবর্তন হয়। এভাবে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গুঞ্জন শুরু হয়।

টুম্পার মা পুষ্প রানী বলেন, মেয়ের শারীরিক গঠন পরিবর্তন হলেও প্রথমে কিছুই মনে করেনি। অনেক দিন থেকেই এই বিষয়টি জানি। তবে লজ্জায় মুখ খুলতে পারিনি। এছাড়া এটা বেশি দিন সমাজে ঢেকে রাখাও যাবে না। তার কথা ও গলার শব্দ দিন দিন ছেলের মতো হয়ে যাচ্ছে। তাই নিজেই এটি প্রকাশ করলাম। নিজে চোখে দেখেছি মেয়ে এখন ছেলেতে পরিণত হচ্ছে।

jagonews24

টুম্পা জানায়, আমি অনেক আগেই বুঝেছি। লিঙ্গের পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। প্রথমে আমার লজ্জা করছিল। তাই প্রকাশ করছিলাম না। পরে আমার মা ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানাই।

প্রতিবেশী আব্দুল বারী ও মোকসেত বলেন, গত কয়েকদিন থেকে শোনা যাচ্ছে টুম্পা মেয়ে থেকে ছেলে হচ্ছে। তাদের বাড়িতে গিয়ে মা ও মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। যদি সত্যই মেয়ে থেকে ছেলে হয়, তাহলে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে আসল রহস্য কি। মুখের কথাই তো আর বিশ্বাস করা যাবে না।

নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল বারী বলেন, আমরা সাধারণত ছেলে থেকে মেয়েতে রূপান্তর হতে চাওয়া রোগীদের চিকিৎসা করে থাকি। এটা কীভাবে হলো না দেখে বলা যাবে না। তবে মনে হচ্ছে পরিবার আগে থেকে বিষয়টি জানত।

নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ বলেন, বিশেষ করে যারা হরমোন নিয়ে কাজ করেন তারা সঠিক ধারণা দিতে পারবেন। তবে ছেলে থেকে মেয়ে বা মেয়ে থেকে ছেলে এটি নতুন কোনো ঘটনা না। আবার হঠাৎ করেই শারীরিক পরিবর্তন হয় না। যখন আস্তে আস্তে বুঝতে পারে তখন নিজেই লিঙ্গ ঘোষণা করে। যদি স্থানীয় উদ্বেগের কোনো কারণ থাকে তাহলে আমরা মেডিকেল বোর্ড গঠন করে মতামত দেয়ার চেষ্টা করব। অথবা মতামতের জন্য মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দিব।

আব্বাস আলী/জেডএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]