আত্রাইয়ে সেচের অভাবে আড়াইশ বিঘা বোরো ধান নষ্ট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:০১ পিএম, ০৪ মে ২০২১

নওগাঁর আত্রাইয়ে বিল বকেয়া থাকায় সেচ পাম্পের মিটার খুলে নিয়ে গেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারিরা। তবে বিল পরিশোধ করা হলেও এখনও মিটারে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়নি। ফলে জমিতে সেচ দিতে পারেননি কৃষকরা।

এতে শতাধিক কৃষকের প্রায় আড়াইশ বিঘা বোরো জমির ধান শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিশা ইউনিয়নে দর্শনগ্রামের কৃষকরা এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর পেছনে তারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করেছেন।

তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের দাবি— বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় তাদের বারবার তাগিদ দেয়া হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়া মাহতাব উদ্দীন নামে একজন অবৈধ সংযোগ নিয়ে সেচ পাম্প চালাচ্ছিলেন। এজন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তারা যদি বিল পরিশোধ করে দ্রুতই তাদের সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে।

জানা গেছে, উপজেলার দর্শনগ্রামের মাঠে মহাতাব উদ্দিন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে এলএলপি বিদ্যুৎ সংযোগ (নদী থেকে পানি উঠানো) নিয়ে আত্রাই নদী থেকে শতাধিক কৃষকের প্রায় আড়াইশ বিঘা জমির ধান চাষ করছিলেন। মার্চ ও এপ্রিল মাসের ২৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎবিল বকেয়া থাকায় গত ১৯ এপ্রিল সংযোগ কেটে দেয়া হয়। এরপর ২১ এপ্রিলে বিলম্ব মাসুলসহ বকেয়া পরিশোধ করে সংযোগ পেতে পুনরায় মিটার স্থাপনের আবেদন করেন তিনি।

তবে পাশের সেচ পাম্পের মালিক আজাহার আলীর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় মহাতাব উদ্দিনকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়। এদিকে মহাতাব উদ্দিনের আওতাভুক্ত কৃষকদের জমিতে কমপক্ষে আরও তিনটি সেচ প্রয়োজন। সেচের অভাবে এসব জমির ধান শুকিয়ে যেতে শুরু করায় হতাশ হয়ে পড়েন চাষিরা।

গত ১৬ দিন থেকে জমিতে সেচ না দেয়ায় জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জমির ধান পাকা মনে হলেও বাস্তবে সব ধান চিটায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে যেখানে বিঘাপ্রতি ২৫-৩০ মণ ধান উৎপাদিত হওয়ার কথা সেখানে এখন ৮-১০ মণ হারে ধান কৃষকরা ঘরে তুলতে পারছেন। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, সেচ প্রকল্পের আওতায় আমার ১৫ বিঘা জমিতে ব্রিআর-২৯ ও কাটারি ভোগ জাতের ধান ছিল। ব্রিআর-২৯ ধানে তিনটা সেচ ও কাটারি ভোগে দুইটা সেচের প্রয়োজন ছিল। প্রতি বিঘাতে দেড় হাজার টাকা সেচ খরচ দিতে হয়। জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব না হওয়ায় ধান শুকিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, গতকাল (সোমবার, ৩ মে) শ্রমিক দিয়ে ধান কাটা হয়েছে। এতে বিঘাপ্রতি ৮-১০ মনের মতো ধান হবে। যেখানে প্রতি বছর ২৫-৩০ মনের মতো ধান পেতাম। পল্লী বিদ্যুতের গাফিলতির কারণেই আজ আমাদের এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।’

এলএলপি সংযোগের অপারেটর মহাতাব উদ্দিন বলেন, মার্চ ও এপ্রিল মাসের ২৪ হাজার টাকা বিদ্যুৎবিল বকেয়া থাকায় গত ১৯ এপ্রিল সংযোগ কেটে দিয়ে মিটার খুলে নিয়ে যায়। এরপর ২১ এপ্রিলে বিলম্ব মাসুলসহ বকেয়া পরিশোধ করে সংযোগ পেতে আবেদন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংযোগ দেয়া হয়নি। জমিতে পানি দিতে না পারায় ধানের গাছ শুকিয়ে অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে অনেকে ধান কেটে নিয়েছে। যেখানে বিঘাপ্রতি ৮-১০ মন হারে ফলন হচ্ছে। তবে কবে সংযোগ দেয়া হবে তা বলতে পারছি না। পল্লী বিদ্যুতের অবেহলার কারণে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ জি এম ফিরোজ জামান বলেন, মহাতাব উদ্দিনের মিটারটি বেশকিছু দিন থেকে নষ্ট। বিষয়টি তিনি অফিসকে অবগত করেননি। এছাড়া তার বিদ্যুৎবিলও বকেয়া ছিল। তার মিটার নষ্ট হওয়ার কয়েকদিন পর অভিযোগ করা হয়। এতে সন্দেহ হয় তাহলে কয়েকদিন তিনি কীভাবে জমিতে সেচ দিলেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় তিনি পাশের আজাহার আলীর এলএলপি সেচপাম্প থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে সেচ কাজ পরিচালনা করছিলেন। পরে তার নষ্ট মিটারটি খুলে নিয়ে আসা হয়েছে। নষ্ট মিটার খুলে নিয়ে আসার দুইদিন পর তিনি বকেয়া পরিশোধ করেন। আবার উল্টো তিনিই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।

আব্বাস আলী/এএএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]