আজ মির্জাপুর গণহত্যা দিবস

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ১২:৫২ পিএম, ০৭ মে ২০২১

মির্জাপুর গণহত্যা দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ৭ মে এ দিনে দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী মির্জাপুরে গণহত্যা চালায়। এদিন তারা এশিয়াখ্যাত দানবীর কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা রবিসহ ৩৭ জন গ্রামবাসীকে নির্বিচারে হত্যা করে।

দিনটি উপলক্ষে অন্যসময় মির্জাপুর গ্রামবাসী নানা কর্মসূচির আয়োজন করলেও করোনাকালীন সময়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

জানা যায়, বিভীষিকার সেইদিনও ছিল শুক্রবার। সদরে ছিল হাটবার। দুপুরের পর হঠাৎ দু’প্লাটুন পাকিস্তানি সেনা মির্জাপুরে প্রবেশ করে। সেনা দেখে হাটের মানুষ ছুটাছুটি করে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে হাট জনশূন্য হয়ে পড়ে।

পাকিস্তানিরা স্থানীয় রাজাকার মওলানা ওয়াদুদ ও তার দুই ছেলে মান্নান এবং মাহাবুব হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করে মির্জাপুর গ্রামে। মির্জাপুর ও আন্ধরা গ্রামে নির্বিচারে ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে নিরীহ মানুষদের হত্যা করা হয়।

পাকবাহিনী সেদিন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। ওইদিনই তারা রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা রবি এবং কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার দুই কর্মচারীকে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে য়ায়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

পোষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের বাবা জয়নাল সরকারকে পাকিস্তানিরা ঘরের ভেতর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। একইদিন তারা নিজ বাসায় আওয়ামী লীগের অফিস থাকার অপরাধে এবং রাজাকারদের কাজে বাধা দেয়ায় পোষ্টকামুরী গ্রামের মাজম আলী শিকদারকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয় বলে জানা যায়।

কিন্তু তিনি আজও কাগজে-কলমে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বলে তার ছেলে আলী হোসেন শিকদার ও জুয়েল সিকদার জানান।

এস এম এরশাদ/এসএমএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]