প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বিক্রির অভিযোগ, সেই দুই নায়েব বদলি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯:৩৮ পিএম, ১০ মে ২০২১ | আপডেট: ০৯:৪৬ পিএম, ১০ মে ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মুজিববর্ষে ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে প্রদান করা ঘর জমিসহ বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে দুই ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে (নায়েব) বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

বদলি করা নায়েবরা হলেন-উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়ন তেলিকান্দি ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুছ ও শাহাজাদাপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হারুন মিয়া। তাদের নাসিরনগর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আস্রাফ আহমেদ রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ উত্থাপনের পরই সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে অবগত করেন। পরে দুই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েবকে জেলার নাসিরনগর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরাইলে মুজিববর্ষে ভূমিহীনদের জায়গাসহ ঘর বিক্রির অভিযোগ ওঠার পর রোববার (৯ মে) ‘আশ্রয়নের ঘর-জায়গা বিক্রি করে দিলেন ভূমি অফিসের দুই নায়েব-’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলায় প্রথম ধাপে ১০২ পরিবার পায় দুই শতক জমিসহ পাকাঘর। এরমধ্যে উপজেলার শাহাজাদাপুর এলাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পে দুই শতক জমিসহ ৯০ নম্বর ঘরটির বরাদ্দ দিয়ে আব্দুল হাশিম ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগমের নামে যৌথ দলিলও সম্পাদনা করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।

আব্দুল হাশিম মিয়া উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাণীদিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা মিয়ার ছেলে ও বিত্তশালী। তবে এই জায়গাসহ ঘর বরাদ্দ পেয়ে দলিলের বিষয়ে জানেন না তিনি।

আব্দুল হাশিম মিয়ার নামে রেজিস্ট্রি করা ঘর ও জমি দুই লাখ টাকায় বিধবা সাফিয়া বেগম ও তার স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে রুনা বেগমের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়ন তেলিকান্দি ভূমি অফিসের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুছ ও শাহাজাদাপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হারুন মিয়া।

প্রথমে দুই ধাপে সাফিয়া বেগম ও তার মেয়ের কাছ থেকে প্রায় মাসখানেক আগে এই জমিসহ ঘরের বায়না বাবদ দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করেন এই দুই ভূমি কর্মকর্তা। গত ৬ মে মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী মা-মেয়েকে দলিল করে দেয়ার পর বাকি ৫০ হাজার টাকা তাদেরকে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন এই ঘরের প্রকৃত মালিক আব্দুল হাশিম মিয়ার নামের দলিল পরিবর্তন করে সাফিয়া বেগম ও তার মেয়ের নামে নতুনভাবে মালিকানা দলিল দিতে না পারায় বাকি ৫০ হাজার টাকা তাদেরকে দেয়া হয়নি। এতে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী এই দুই কর্মকর্তা এবং ক্রেতা সাফিয়া বেগম ও তার মেয়ে রুনা বেগমের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

ভুক্তভোগী সাফিয়া বেগম ও তার মেয়ে রুনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভূমি অফিসার আব্দুল কুদ্দুছ আশ্রয়ন প্রল্পের একটি ঘর দুই শতক জায়গাসহ দুই লাখ টাকায় আমাদের কাছে বিক্রি করেছেন। তিনি বলেছিলেন, এই ঘর যিনি পেয়েছেন তিনি অরুয়াইলের রাণীদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শাহাজাদাপুর এলাকায় এতো দূরে বসবাস করতে আসবেন না। তাই অন্তত ১০ লাখ টাকার সম্পদ মাত্র দুই লাখ টাকায় তিনি আমাদের দয়া করে দিচ্ছেন। দলিলে আব্দুল হাশিম মিয়ার ছবি কেটে ও নাম পরিবর্তন করে সেখানে আমার ছবি ও নাম বসিয়ে নতুনভাবে দলিল সম্পাদনা করে দেবেন। তার কথা বিশ্বাস করে দেড় লাখ টাকা নিয়ে দিয়েছি।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]