প্রস্তুত মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিংয়ে ভাটা

এস ইসলাম
এস ইসলাম এস ইসলাম , লন্ডন থেকে মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:০৯ এএম, ১২ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটি সামনে রেখে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল ও রিসোর্টে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিবছর এই সময় দেশি-বিদেশি অসংখ্য পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে জেলার পর্যটন স্পটগুলো। তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিং তুলনামূলকভাবে কম, যা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগে আছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

জেলার সাত উপজেলায় কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। রয়েছে দুই শতাধিক দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য চা বাগান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পল্লি।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন করে সাজানো হয়েছে প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্র ও হোটল-রিসোর্ট। তবে এ বছর পর্যটকদের সাড়া কম পাওয়া যাচ্ছে। আগাম বুকিং একেবারে কম হয়েছে। বাকি কয়েকদিনে কী পরিমাণ আগাম বুকিং হবে তার ওপর নির্ভর করবে এবারের পর্যটন ব্যবসা কেমন হবে।

জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, কমলগঞ্জে মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, চা- কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি, ডিনস্টন সিমেট্রি, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পল্লী, হাকালুকি হাওড়, মনু ব্যারেজ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বধ্যভূমি, উঁচু নিচু সবুজ চা বাগান, নীলকণ্ঠ টি-কেবিন, ব্যক্তি মালিকানা সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, গগন টিলা, কমলা রাণীর দিঘি, পৃথিমপাশা নবাব বাড়ি, পাথারিয়া হিলস্ রিজার্ভ ফরেস্ট, আদমপুর বনবিট, খাসিয়া পুঞ্জি, হাকালুকিহাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, হযরত শাহ মোস্তফা (র.) এর মাজার শরীফ, পদ্মছড়া লেক, ক্যামেলিয়া লেক, পাত্রখোলা লেক, বাম্বোতল লেক, শমশেরনগর গল্ফ মাঠসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীবসবাস সহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান।

শ্রীমঙ্গলের কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্টের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৫ রমজানের মধ্যেই ৫০-৬০ শতাংশ রুম আগাম বুকিং হয়ে যায়। তবে এবার পুরোটাই উল্টো। ঈদের সপ্তাহখানেক বাকি থাকলেও একেবারে কম আগাম বুকিং হয়েছে। কোথাও ৫ শতাংশ, আবার কোথাও ১০-১৫ শতাংশ আগাম বুকিং হয়েছে।

তারা বলছেন মূলত দুটি কারণে পর্যটক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি ও মানুষের জীবনযাত্রায় খরচ বেড়ে যাওয়া।

শ্রীমঙ্গলের লেমন গার্ডেন রিসোর্টের অপারেশন ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর খুবই কম আগাম বুকিং হয়েছে। বিভিন্ন কারণে এ বছর পর্যটক কম আসবে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বে যুদ্ধ চলছে, একইসঙ্গে তেলের দাম বেশি। এসব কারণে মনে হচ্ছে পর্যটক কম আসবেন।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে একেবারে পর্যটক নেই। বিগত বছরগুলোতে এমন সময় ৫০ শতাংশ রিসোর্ট ও হোটেল আগাম বুকিং হয়ে যেত। এবার এখন পর্যন্ত ৫-১০ শতাংশ আগাম বুকিং হয়নি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটক কম আসবে বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। আগত পর্যটকরা নিরাপদে চলাফেরা ও থাকতে পারেন এজন্য সংশ্লিষ্ট হোটেল ও পর্যটন কেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভ্রমণ নিবিঘ্ন করতে আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক আসে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে। সেখানে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশ থাকবে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পর্যটকরা যেন নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরতে পারেন এজন্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে পুলিশ।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।