ঈদে মায়ের শাড়ি কেনার টাকা এখনো জমাতে পারেনি আসলাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ১০:৪৩ এএম, ১২ মে ২০২১

আসলাম হোসেন (১০)। পেশায় এখন ভ্যানচালক। বাবার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে এই কিশোর। নিজের ও মায়ের জন্য ঈদের কেনাকাটার টাকা জোগাড় করতে ভ্যানে যাত্রী নিয়ে ছুটছে বিভিন্ন জায়গায়।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে বসবাস কিশোর আসলামের। ওই এলাকার মৃত হাসেম হোসেনের ছেলে সে।

মঙ্গলবার (১১ মে) দুপুরে আলিপুর এলাকায় কথা হয় আসলামের সঙ্গে। কথা বলার একপর্যায় সে বলা শুরু করে তার বর্তমান জীবনের গল্প। মাসখানেক আগে তার বাবা অসুস্থজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। সংসারে ছিল বড়বোন ও মা। বাবার মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই বড়বোনের বিয়ে হয়ে যায়। এখন মাকে নিয়েই তার সংসার। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে আয় হয় ১০০-১৫০ টাকা। সে টাকা দিয়ে সংসার চলে যায়। তবে আর দুদিন পর ঈদ।

ঈদে নিজের ও মায়ের জন্য কেনাকাটা করতে হবে। এজন্য দরকার বাড়তি টাকা। সেই বাড়তি টাকা আয়ের জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছে আসলাম। বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে বিশ্রাম না নিয়েই আবার ছুটছে ভাড়ার আশায়।

আসলাম জানায়, বাবা বেঁচে থাকতে সে স্কুলে যেত। পড়াশোনা করত। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর এখন সংসারের সম্পূর্ণ বোঝা তার ওপর। তাই সংসার চালানোর তাগিদে ভ্যান চালাতে হচ্ছে তাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তমাল হোসেন বলেন, আসলামের বিষয়টি জানা ছিল না। এখন জানতে পারলাম। তার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেজাউল করিম রেজা/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]