বিনামূল্যের ঈদ বাজারে শাড়ি-লুঙ্গিসহ ১২ পণ্য পেল ৩০০ পরিবার
কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়া বাজার পিটিআই গলির বাসিন্দা মুর্শেদা বেগম। স্বামী অসুস্থ। করোনায় আয়-রোজগার বন্ধ। রাত পোহালেই ঈদ। কিন্তু, ঈদের দিন সন্তানদের মুখে একটু ভালো খাবার তুলে দিবেন, এমন সাধ্য ছিল না তার। তবে ঈদ আনন্দ বাজারে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলেন শ্রমজীবী এ নারী।
মানবিক ‘ঈদ আনন্দ বাজার’ থেকে স্বপ্নের ঈদ সওদা নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরলেন মুর্শেদার মতো অসংখ্য নারী। বিনামূল্যে মানসম্মত ঈদ সামগ্রী পেয়ে যেন তাদের চোখে-মুখে তৃপ্তির ঝিলিক।

বুধবার (১২ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী এনায়েত করিম অমির ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ ঈদ আনন্দ বাজারের আয়োজন করা হয়। বাজার থেকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঈদ উপহার সামগ্রী পেয়েছে তিন শতাধিক দরিদ্র পরিবার।
শহরের নগুয়ার বিন্নগাঁও এলাকায় তার বাসার সামনে খোলা জায়গায় এ ব্যতিক্রমধর্মী বাজার থেকে উপকারভোগীরা টেবিলে সাজানো ঈদসামগ্রী থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যান।

কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দরিদ্র মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয় এ বাজার। ভেতরে প্রবেশের পর সবাইকে হ্যান্ড স্যানিটারজার ব্যবহার করতে দেয়া হয়। যাদের মুখে মাস্ক নেই, তাদের দেয়া হয় মাস্ক।
১২টি টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয় ঈদসামগ্রী। প্রতি টেবিলে একজন করে স্বেচ্ছাসেবক। স্বেচ্ছাসেবকরা পণ্যগুলো ব্যাগে ভরে টেবিলে সাজিয়ে দেন। টেবিল সাজানো শেষে তারা বাজার ত্যাগ করেন। বাজারের ব্যাগ দেয়া থেকে শুরু করে টেবিল থেকে একটি করে পণ্য ব্যাগের ঢোকানোয় সহযোগিতা করেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোলাহলমুক্ত এ বাজার থেকে প্রতিটি পরিবারকে বিনামূলে এক কেজি পোলাও চাল, পাঁচ কেজি সাধারণ চাল, এক প্যাকেট সেমাই, এক কেজি চিনি, আধা লিটার তেল, এক প্যাকেট লবণ, একটি সাবান, একটি হ্যান্ড সিনিটাইজার, একটি মাস্ক, শ্যাম্পু ও নারীদের জন্য একটি নতুন শাড়ি আর পুরুষদের জন্য একটি করে লুঙ্গি উপহার দেয়া হয়।

পরিবেশবান্ধব মানবিক এই ঈদ আনন্দ বাজারের আয়োজক এনায়েত করিম অমি। তিনি জানান, গত বছরের মতো এবারও আনন্দ বাজারের আয়োজন করা হয়। এখানে আসা দরিদ্র মানুষগুলো ঈদ উপহার পেয়ে যেন সম্মানিতবোধ করেন, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে করোনা মহামারিতে তারা যেন এখান থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শেখেন, সেটাও মাথায় রাখা হয়।
নূর মোহাম্মদ/এসআর/এমকেএইচ