সবাই শুধু আশ্বাস দেয়, আজও মেলেনি একটি হুইল চেয়ার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০১:৫৫ পিএম, ১৬ মে ২০২১

‘জীবনটা এত কষ্টের কেন? সৃষ্টিকর্তা যেন পৃথিবীর সব অশান্তি আমার কপালেই দিয়েছে। একটা সময় আমার সব ছিল, কিন্তু এখন কিছুই নেই। বর্তমানে অন্যের জমিতে ফসল ফলাই, আর দু’মুঠো ভাত খাই। প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি, সবাই শুধু হুইল চেয়ার কেনার আশ্বাস দেয়, কেউ প্রতিশ্রুতি রাখে না।’

কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো জাগো নিউজকে বলছিলেন, সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী ফজরুল ইসলামের পিতা হারুন রশিদ।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত সংসারে অভাব লেগেই থাকে। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার মতোও কেউ নেই। ছেলেকে টাকার অভাবে কিনে দিতে পারছি না একটি হুইল চেয়ার। বাবা হয়ে জীবিত থেকে সন্তানের কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ থেকে ১১ বছর আগে পরিবারকে আলোকিত করে জন্ম নেয় ফজরুল ইসলাম। জন্মের পর পরিবারের সবার মুখে হাসি ফুটলেও এখন আর সেই হাসি নেই। জন্মের দুই বছর পর থেকেই সে সাধারণভাবে সে চলাফেরা করতে পারে না।

পরিবারের অন্য সদস্যের সহযোগিতাই তার একমাত্র ভরসা। এভাবে আর কতদিন চলবে অন্যের উপর ভরসা করে? খাওয়া-দাওয়াসহ তার সব কাজ করে দেন তার পরিবারের সদস্যরা। প্লাস্টিক চেয়ারে বসে থেকেই জীবনযাপন করছে সেই সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী।

এ সমস্যার সমাধান হিসেবে পরিবার-পরিজনের একটি হুইল চেয়ারের জন্য গত ৫ বছর যাবৎ অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও একটি চেয়ার কপালে জোটেনি।

সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী ফজরুল ইসলাম (পিতা হারুন রশিদ) তিনি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার ২নং শ্রীপুর (দক্ষিণ) ইউপির নিশ্চিন্তপুর (দক্ষিণ হাটি) গ্রামে।

সাধারণত সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী বলতে বোঝায়, সেরিব্রাল পালসি হলো একটি অ-প্রগতিশীল স্নায়বিক সমস্যা যা বাচ্চাদের উন্নয়নশীল মস্তিষ্কের আঘাত বা বিকৃতির কারণে ঘটে।

এটি গুরুতর শৈশব অক্ষমতার একটি খুব সাধারণ কারণ। এটি প্রধানত নড়াচড়া এবং পেশী সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি করে। সেরিব্রাল পালসি, ঠিক কী কারণে বাচ্চাদের মধ্যে দেখা দেয়, তা এখন পর্যন্ত অজানা। তবে গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় বা জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যে মস্তিষ্কের আঘাত বা ক্ষতকেই এর মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের আঘাত শিশুকে সেরিব্রাল পালসির দিকে ঠেলে দেয়।

সেরিব্রাল পালসি প্রতিবন্ধী ফজরুল ইসলামের মা আমিনা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ছেলেটা হাঁটতে পারে না। একা ঘরের বাইরেও যাইতে পারে না। চলাফেরা করতে পারে না, সারাদিন প্লাস্টিকের একটা চেয়ারে বইসা থাকে।

প্রতিবন্ধীর ‘পিতা’ হারুন রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আবদার আমার ছেলে প্রতিবন্ধী, আমার আর্থিক অবস্থা নাই আমি সরকারের কাছে ছেলের জন্য একটা হুইল চেয়ার দেয়ার জন্য আবেদন করলাম। আমি অনেক যায়গায় আবেদন করেছি কিন্তু পাই নাই। শুধু আশ্বাস পেয়েছি কিন্তু তার কোনো বাস্তাবায়ন হয়নি। যারা দেশ-বিদেশে আছেন আমার এই ছেলেরে দেখইখা সাহায্য করেন তাইলে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জাগো নিউজকে বলেন, বরাদ্দ আসলে আমরা প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ারসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করব।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিবন্ধী হলে অবশ্যই হুইল চেয়ার পাবে। আমরা বিষয়টি দেখব।

লিপসন আহমেদ/এমআরএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]