সুনামগঞ্জে ৭ বাল্কহেড জব্দ নিয়ে ‘লুকোচুরি’
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ডলুরায় শনিবার (১৫ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে সাতটি বালুভর্তি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির বিষয়ে জানতে কথা বলতে চাইলেও এড়িয়ে গেছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।
শনিবার (১৫ মে) রাতে বাল্কহেডগুলো জব্দের পর সুনামগঞ্জ লঞ্চঘাট শহর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। রোববার (১৬ মে) বেলা ১১টায় জব্দ সাতটি বাল্কহেডের ছবি ও ফুটেজ জাগো নিউজের কাছে আসে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমানের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বাল্কহেড জব্দের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন। সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিন্নাত বাল্কহেডগুলো জব্দ করেছেন বলে নিশ্চিত তথ্য আছে জানালে ওসি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর কল কেটে দেন।
পরে সদর থানার এসআই জিন্নাতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। পাঁচ মিনিট পর ফোন দিলে তিনি রিসিভ করে বলেন, ‘কে আপনি ভাই, এতো ফোন দিচ্ছেন কেন?’
সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি আর কোনো কথা বলতে চাননি। শুধু বলেন, ‘আপনি ওসি স্যারকে ফোন দেন।’
পরে দুপুরে সদর থানার ওসি সহিদুর রহমানকে কল দেয়া হলেও তার আর সাড়া মেলেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জাগো নিউজকে জানান, শনিবার রাতে সদর উপজেলার ডলুরা থেকে বালুভর্তি সাতটি বাল্কহেড আটক করেন সদর থানার এসআই জিন্নাত ও এসআই জাহাঙ্গীর। এরপর বাল্কহেডগুলো সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বাল্কহেডে প্রায় আড়াই লাখ টাকার বালু রয়েছে। একটি বাল্কহেডের দামও অনেক। শুনছি স্থানীয় মেম্বার ওসির সঙ্গে কথা বলছেন। সম্ভবত পুলিশ এগুলো ছাড়ার জন্য বড় অংকের টাকা দাবি করেছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উচ্চ আদালতে মামলাজনিত কারণে ২০১৮ সাল থেকে বালু মহালের ইজারা বন্ধ হয়ে আছে। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র দাপট দেখিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর আগ মুহূর্তে তারা খবর পেয়ে বাল্কহেড নিয়ে সেখানে থেকে সটকে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, যদি কোনো বাল্কহেড পুলিশ আটক করে তাহলে টাকার বিনিময়ে সেগুলো রাতের আঁধারে ছাড়িয়ে নেয়া হয়।
এর আগে গত ২ মে সুনামগঞ্জ ধুপাজান চলতি নদীতে নৌ-পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করার সময় একটি ড্রেজার মেশিন, দুটি বালুভর্তি স্টিল নৌকা আটক করে। পরে ড্রেজার ও নৌকা দুটি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুটি নৌকার মালিককে ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং নৌকায় থাকা বালু নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।
লিপসন আহমেদ/এসআর/এইচএ/জেআইএম