পদ্মা পাড়ের পরিবেশ রক্ষায় তারা সদা তৎপর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:০২ পিএম, ১৮ মে ২০২১ | আপডেট: ১০:০৮ এএম, ১৯ মে ২০২১

পদ্মা নদীকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন তাদের। তাইতো পদ্মা ও তার চারপাশের প্রকৃতি রক্ষায় সবসময় সচেষ্ট তারা। পদ্মার ভাঙন রক্ষার আন্দোলন, তীরের সৌন্দর্য আর সম্ভাবনা তুলে ধরাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।ব্যতিক্রমী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্মা নদী এবং নিজ এলাকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন তারা।

বলছি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মাপাড়ের একদল স্বপ্নবাজ তরুণের কথা। এবার এ তরুণরা পদ্মার দুষণ ঠেকাদে স্থাপন করেছে ১০টি ডাস্টবিন।

‘হরিরামপুর শ্যামল নিসর্গ’ ব্যানারে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মার তীরে এ ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়। ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনাও পরিস্কার করছেন ওই তরুণরা।

jagonews24.com

স্থানীয়রা জানায়, হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকায় পদ্মার ভাঙন রক্ষায় সরকারিভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয় বছর চারেক আগে। এরপর থেকেই পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে ঈদ, পুজা, পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসব ও ছুটির দিনে মানুষের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি।

একেক মৌসুমে প্রমত্তা পদ্মার একেক রূপ দেখে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা। দিন যতই যাচ্ছে ততই ভিড় বাড়ছে পদ্মা পাড়ে।

কিন্তু ঘুরতে আসা এসব মানুষ অসচেতনভাবে চিপস, বিস্কুট, কোমল পানীয়ের বেতল, সিগারেটের প্যাকেট, ক্যান, প্লাস্টিক ও পলিথিনজাত নানা বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে পদ্মার পরিবেশকে করছে দূষিত। পদ্মাকে এ দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতেই এগিয়ে এসেছেন ওই তরুণরা।

jagonews24.com

শ্যামল নিসর্গ সংগঠনের সদস্যরা জানান, বড় আকৃতির প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে ডাস্টবিন বানানো হয়েছে। সদস্যরা ঈদের কেনাকাটার অর্থ বাঁচিয়ে এ ড্রাম কেনেন। এরপর এলাকা থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে বানানো হয় খুঁটি। সেগুলো মাটিতে পুঁতে ড্রামগুলো শক্ত করে বেঁধে দেয়া হয়। এভাবেই অস্থায়ী ডাস্টবিন বানানো হয়েছে।

তাদের ডাস্টবিনের সুফলও মিলতে শুরু করেছে। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বেশির ভাগই বর্জ্য ফেলতে ডাস্টবিন ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসা এসব তরুণদের বেশিরভাগই কর্মজীবী। নিজেদের চাকরি অথবা ব্যবসার পাশাপাশি শেকড়ের প্রতি রয়েছে তাদের গভীর টান। ছুটি পেলেই গ্রামে ফিরে নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন তারা।

তরুণদের একজন পলাশ সূত্রধর। তিনি জানান, দর্শনার্থীদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বর্জ্যে নদী ও পরিবেশ দূষণ হচ্ছিল। এ থেকে রক্ষার জন্যই ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ডাস্টবিনের বর্জ্যগুলোও নিয়মিত পরিস্কার করা হচ্ছে। প্লাস্টিক ও পলিথিনের অপব্যবহার বন্ধে দর্শনার্থীদের সচেতন করতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।প্লাস্টিকের মতো অপচনশীল দ্রব্যগুলো পুনরায় ব্যবহার করতে স্থানীয় ভাঙারি দোকানে দেয়া হচ্ছে।

jagonews24.com

সংগঠনের সদস্য তৈয়বুল আজাহার বলেন, পদ্মার প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বছরজুড়েই আন্ধারমানিক এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। পযর্টন সম্ভাবনাময় পদ্মা পাড়ের সৌন্দর্যকে আরও বাড়াতে কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালুসহ বিভিন্ন বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেয়া হয়েছে।

কলেজ শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু বলেন, সচেতনতা আর সদিচ্ছা থাকলে পদ্মার চরেও যে পরিরেশ রক্ষায় কাজ করা যায় হরিরামপুরের তরুণরা তা করে দেখিয়েছেন। এ উদ্যোগ সত্যিই অনূকরণীয়।

স্থানীয় পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক (তরুণদের দেয়া নাম পদ্মা পাড়ের সক্রেটিস) হরিপদ সূত্রধর বলেন, এলাকায় শিক্ষা, সাংস্কৃতি, খেলাধুলা ও বইপড়া চর্চার অভ্যাস তৈরিসহ নদী ভাঙন রোধে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছেন এ তরুণরা। এবার তারা পদ্মা নদী ও তার আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় ডাস্টবিন স্থাপন করেছেন। এটা সত্যিই ভালো উদ্যোগ। তাদের এই কর্মকাণ্ডে প্রবীণরাও নানাভাবে সহযোগিতা করছেন বলে জানান তিনি।

বি এম খোরশেদ/এএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]