নোয়াখালীতে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালের মেঝেতেও নেই ঠাঁই
নোয়াখালীতে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। খালি নেই ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের বেড। রোগীর চাপে মেঝেতেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। উপজেলা সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতেও একই অবস্থা।
শুক্রবার (২১ মে) নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে রোগীর উপচেপড়া ভিড়। এ ওয়ার্ডে ২০জন রোগীর আসন থাকলেও শুক্রবার ৭৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি আছেন। এদেরকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত মাত্র দুজন নার্স।

রোগীর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা সদরের এতো বড় হাসপাতালে অসুস্থ রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। কারণ ৭৪ জন রোগীর সেবা দিতে মাত্র দুজন নার্স খুবই অপ্রতুল। এখানে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার-নার্স না বাড়ালে রোগীরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমুন নাহার জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ ওয়ার্ডে হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। এখানে ২০ জন রোগীকে সেবা দেয়ার ব্যবস্থা থাকলেও প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। গত সাতদিনে এখানে ভর্তি হয়েছেন ৩০১ জন রোগী।’

হাসপাতালের রেজিস্ট্রার থেকে জানা যায়, ১৫ মে ৩১ জন, ১৬ মে ৩৫ জন, ১৭ মে ৩৯ জন, ১৮ মে ৩৬ জন, ১৯ মে ৫২ জন, ২০ মে ৩৪ জন ও ২১ মে ৭৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ১৫ মে সাবিনা ইয়াসমিন (১২) নামে এক শিশু মারা যান।
এদিকে, করোনার প্রাদুর্ভাবে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় জেনারেল হাসপাতালের এই ওয়ার্ডের রোগীর ধারণ ক্ষমতা, ডাক্তার-নার্স ও সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে রোগীর স্বজনরা।

এদিকে, নোয়াখালীতে গত কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়া, তীব্র গরম ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান ডাক্তারদের উপস্থিত নিশ্চিত করে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শায়লা শারমিন জাহান শুক্রবার রাতে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অতিরিক্ত গরম, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও খোলা খাবারের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার-নার্সের সংখ্যা ও তদারকি বাড়ানো হবে।’
এসজে/জিকেএস