বিয়ে করাই তার পেশা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ২৩ মে ২০২১

‘ধনী ঘরের ছেলে, বাবা-মা বেঁচে নেই’—এমন পরিচয়ে একের পর এক মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে। এরপর বিভিন্ন কাজের কথা বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন মোটা অংকের টাকা। একসময় কৌশলে সটকে পড়তেন। আবার একই কায়দায় অন্য কোনো এলাকায় গিয়ে বিয়ে, টাকা আদায়।

এভাবেই নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে একের পর এক বিয়ে আর প্রতারণার জাল ফেলেন নাঈম ওরফে রাজু (২৯) নামের এক যুবক। তাকে প্রতারণায় সহযোগিতা করেন কয়েকজন সহযোগী। যারা বিয়ের সময় নিজেদের নাঈমের ‘ভাই’, ‘চাচা’সহ নিকটাত্মীয় বলে পরিচয় দিতেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে ধরা পড়েছেন বিয়ের নামে প্রতারণাকারী মো. নাঈম। শনিবার (২২ মে) রাতে কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।

আটক নাঈম কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়েনের শিমুলকান্দী গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, নাঈম একজন বখাটে ও প্রতারক। প্রতারক চক্রের কয়েকজনের সহযোগিতায় তিনি মিথ্যা পরিচয়ে নিজেকে ‘রাজু’ এবং ‘এতিম’ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গ্রামের সহজ-সরল পরিবারের মেয়েদের বিয়ে করতেন। তার দলের কয়েকজন নিজেদের ছেলের ‘বড় ভাই’ কেউ ‘চাচা’, কেউ ‘মামা’ আবার কেউবা ‘ঘটকের’ ভূমিকা পালন করতেন।

প্রতারক দলটি কোথাও বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে বিয়ের আগেই ঘটক হাতিয়ে নিতেন টাকা। এরপর বিয়ে শেষে নাঈম থাকতেন শ্বশুরবাড়িতে। কয়েকদিন পর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে সটকে পড়তেন। এভাবে গত কয়েক বছরে অনেকগুলো (নির্দিষ্ট সংখ্যা অজানা) বিয়ে করেন নাঈম।

সর্বশেষ গত ঈদের আগের দিন কটিয়াদী উপজেলার পংমশুয়া এলাকায় এক মেয়েকে বিয়ে করেন নাঈম। কিন্তু এর আগে ভৈরবে বিয়ে করা স্ত্রীর ছোট বোন নাঈমের প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে নতুন স্ত্রীকে জানান। এভাবে ফাঁস হয় প্রতারক নাঈমের বিয়ে নাটক! খবর পেয়ে পুলিশ সবশেষে বিয়ে করা শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে আটক করে।

এ ব্যাপারে সবশেষ বিয়ে করা মেয়েটি বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি প্রতারণা মামলা করেন। তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগও রয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতারণা ও মিথ্যা কথা বলে একের পর এক বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে থাকা এবং অর্থ হাতিয়ে নেয়াই ছিল নাঈমের মিশন। এ পর্যন্ত সে চারটি বিয়ে করে প্রতারণা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত ৯ মাসে কটিয়াদীতে দুটি, ভৈরবে একটি এবং নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে একটি বিয়ে করেছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এমন আরও অনেক ঘটনা আছে বলে মনে করছে পুলিশ।’

হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনাহর আলী জানান, চতুর নাঈম ও তার সহযোগীরা বিয়ের পর নতুন আত্মীয়দের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। নাঈম তার স্ত্রীদের আইডি কার্ড ও অন্যান্য কাগজ ব্যবহার করে এক স্ত্রীর নামে কিশোরগঞ্জের এক নারীর কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। একটি এনজিও থেকেও টাকা তুলেছেন। তার সব অপকর্ম বের করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

নূর মোহাম্মদ/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।