রাস্তা ভেঙে নদীতে, ভোগান্তিতে পাঁচ গ্রামের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ২৮ মে ২০২১

ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও জোয়ারের কারণে ব্যাপকহারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বিষখালী নদীতে। বেড়ি বাঁধ না থাকায় পানি ঢুকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কয়েকশ ঘের প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

বেড়ি বাঁধ না থাকায় বিষখালী নদী তীরবর্তী ভাটারাকান্দা এলাকার ৫০ মিটার পিচ ঢালাই রাস্তা ভেঙে নদীতে নেমে গেছে। এ কারণে ভাটারাকান্দা গ্রামসহ ৫টি গ্রামের জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ওই এলাকা থেকে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে সড়ক পথে দ্রুত চিকিৎসা নেয়ারও কোনো সুযোগ নেই।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকালে নদীর পানির চাপে চলাচলের প্রায় ৫০ মিটার রাস্তা ভেঙে নদীতে মিশে যায়। এতে গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চরভাটারাকান্দা, ভাটারাকান্দা, সাচিলাপুর, চরসাচিলাপুর, কিস্তাকাঠিসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে ১০ টাকা ভাড়ায় নৌকায় করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুর থেকেই পানি বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার (২৮ মে) দুপুর পর্যন্ত নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ ফুট বাড়তি ছিল। সুগন্ধা নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী বারৈকরণ খেয়াঘাট সংলগ্ন কুতুবনগর বেড়ি বাঁধটি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদীর উত্তাল ঢেউয়ে ভেঙে গাছপালা নিয়ে নদীতে বিলীন হয়েছে। এই বেড়ি বাঁধের আওতায় দুই হাজার একর ফসলি জমি ও ৫শ পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষের বসবাস হুমকির মুখে পড়েছে।

jagonews24

ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আলতাফ হোসেন জানান, এলাকার অনেক ঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকালে নদীর পানির চাপে চলাচলের প্রায় ৫০ মিটার রাস্তা ভেঙে নদীতে মিশে যায়। এতে গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চরভাটারাকান্দা, ভাটারাকান্দা, সাচিলাপুর, চরসাচিলাপুর, কিস্তাকাঠিসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়ভাবে ১০ টাকা ভাড়ায় নৌকায় করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলছে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসান, ইউপি চেয়ারম্যান এককেএম জাকির হোসেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম মাসুমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কৃষ্ণ ঘোষ জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে তিন শতাধিক ঘের প্লাবিত ও মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা জরিপের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে নির্দেশনা পাওয়া মাত্র দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী জানান, বিষখালী নদী তীরবর্তী ভাটারাকান্দা এলাকার একটি পাকা রাস্তার প্রায় ৫০ মিটার ভেঙে নদীতে মিশে গেছে। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আশা করি এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।

আতিকুর রহমান/এমআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]