ট্রেনের টিকিট আটকে রেখে অতিরিক্ত দামে বিক্রি, তিনজনকে সাজা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ৩১ মে ২০২১

দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকাগামী বিপুল পরিমাণ আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল, সিম কার্ড, পেন ড্রাইভসহ অনলাইন টিকিট সংগ্রহের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন-দুই সহোদর পলাশ চন্দ্র রায় (২৫) ও রতন চন্দ্র রায় (২২)। তারা পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের বান্নিরঘাট গ্রামের প্রভাশ চন্দ্র রায়ের ছেলে। সাজাপ্রাপ্ত অন্যজন হলেন তাদের ভাগিনা বীরগঞ্জ উপজেলার কুমোরপুর গ্রামের ধনঞ্জয় চন্দ্র রায়ের ছেলে হৃদয় চন্দ্র।

আটক তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে সাজা দেয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পার্বতীপুর উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিদ কায়সার রিয়াদ।

প্রতারক চক্রটি ভোর ৬টায় অনলাইনে প্রবেশ করে টিকিটগুলো কেটে জমা করে রেখে অতিরিক্ত মূল্যে সাধারণ যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানান, রেলস্টেশন সংলগ্ন সিঙ্গার মোড়ে কুদ্দুস সুপার মার্কেটে হৃদয় টেলিকম নামের একটি কম্পিউটার দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দোকান মালিক পলাশ চন্দ্র রায়সহ দুজনকে টিকিটসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানে হৃদয় টেলিকম দোকান থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের ৩১টি টিকিট, ১৭টি সিম কার্ড, পেনড্রাইভ, ফেসবুকে টিকিট বিক্রির বিজ্ঞাপন উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত টাকায় টিকিট ক্রয় করে প্রতারিত হওয়া যশাইহাট এলাকার আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি চিকিৎসার কাজে ঢাকা যাব। তবে করোনার কারণে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় টিকিট কাউন্টারে টিকিট দেয়া বন্ধ থাকায় আমি হৃদয় টেলিকম নামের ওই কম্পিউটার দোকানে যাই। সেখানে নীলসাগর আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটতে বলি। তাৎক্ষণিক টিকিট না কেটে আমার কাছে সাধারণ আসনের টিকিট বাবদ এক হাজার ৫শ টাকা নিয়ে আগের সংগ্রহ করা টিকিট আমার হাতে ধরিয়ে দেন। আমি নিরূপায় হয়ে টিকিটটি নেই। এভাবে অনলাইনে টিকিট বিক্রি করায় হাজারো মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।’

পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জিয়াউল আহসান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কাউন্টারে টিকিট কাটা বন্ধ আছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে টিকিট বিক্রি করছেন। টিকিট মজুত করে রাখা এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।