কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর নামে মানবপাচার মামলা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৯:২৬ এএম, ১৩ জুন ২০২১

ঢাকা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এর জারিকারক মাহবুব এলাহীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১২ জুন) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন সিরাজপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ নগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল হাসেমের স্ত্রী জুলেখা বেগম শেফালী।

তিনি জানান, তার স্বামী-সন্তান বিদেশে থাকেন। এ সুযোগে কোম্পানীগঞ্জের চরপার্বতী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কেটিএমহাট এলাকার আজগর আলী মিয়াজী বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে ও ঢাকার জজ আদালতের জারিকারক মাহবুব এলাহী কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় মিথ্যা মানবপাচার মামলা দিয়ে জুলেখাকে হয়রানি করে আসছেন।

জুলেখা বেগম জানান, মাহবুব এলাহী ঢাকার জজকোর্টের জারিকারক হওয়ায় তার আত্মীয় গোলাম রাব্বানীকে দিয়ে জুলেখাসহ তার প্রবাসী স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এ ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই ‘মিথ্যা অভিযোগ’ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে ঠিকানা গোপন করে মাহবুব এলাহী ৫ নম্বর সাক্ষী হন। পরে অভিযোগটি ওই বছর ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার হাজারীবাগ থানায় মামলা (নম্বর-৬৫) আকারে রুজু হয়। যা মানবপাচার মামলা (মামলা নম্বর -৭৭/২০১৮) হিসেবে বর্তমানে চলমান আছে।

ওই মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে একমাস কারাভোগ করেন। পরে তিনি জামিনে আসার পর মাহবুব এলাহীর নির্দেশে গত ১৭ মে গোলাম রাব্বানী, গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে ১৯ মে কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিনি মামলা (নম্বর-৩১) দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে জুলেখা আরও জানান, গোলাম রাব্বানীকে তার স্বামী আবুল হাসেম সৌদি আরবে নিয়ে গেলে তিনি ১৩ মাস চাকরি করে মালিকের দোকান থেকে ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল চুরি করে দেশে চলে আসেন। পরে ওই টাকা তার মায়ের নামে ইসলামী ব্যাংক বসুরহাট শাখায় জমা করেন। প্রমাণ হিসেবে জমার রসিদও উপস্থাপন করেন জুলেখা।

বর্তমানে মানবপাচারের মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে জারিকারক মাহবুব এলাহী পাঁচ লাখ টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন জুলেখা বেগম। তিনি এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৫ আদালতের জারিকারক মাহবুব এলাহীকে ফোন করলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে রং নম্বর বলে কেটে দেন।

এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।