প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে কেনা বসতভিটে গ্রাস করছে নদী
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা পেয়ে জমি কিনে বসতবাড়ি গড়ে তুলেছিলেন অসহায় দিনমজুর বদিয়ার রহমান (৫০)। তার সেই বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বসতভিটে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছে পরিবারটি।
পাটগ্রামের কুচলিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মাঝ দিয়ে বয়ে চলা সিঙ্গিমারি নদীতে এ বসতভিটে হারানোর শঙ্কায় মুষড়ে পড়েছেন ৪ নং ওয়ার্ডের কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা বদিয়ার।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে অধিক পরিশ্রমে পঞ্চাশেই উপার্জনক্ষম হয়ে পড়েছেন বদিয়ার। এখন আর কাজকর্মে যেতে পারেন না। স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসারের ঘানি টানছেন।
১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে পাওয়া ১০ হাজার টাকায় ২৪ শতাংশ জমি কিনে বসতবাড়ি করে সেখানে বসবাস শুরু করেন বদিয়ার রহমান। নদীভাঙনে এখন মাত্র ১২ শতাংশ বসতভিটে জমি রয়েছে তার। নদীভাঙনে এ পর্যন্ত দুইবার তার ভিটের ক্ষয় হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সিঙ্গিমারি নদী থেকে বোমা মেশিন দিয়ে বছরের পর পাথর উত্তোলনের ফলে যে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে ভেঙে পড়েছে বদিয়ার রহমানের বসতভিটে। এই বর্ষায় আবারও তার বসতভিটে ভাঙনের কবলে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিঙ্গিমারি নদীর ভাঙনে বাউরা-পাটগ্রাম মহাসড়কটিই ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বাড়ছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পাচঁ শতাধিক পরিবারের বসতি।
বদিয়ারের বাড়ির পাশে গিয়ে দেখা যায়, তার বসতভিটের অর্ধেকটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একমাত্র ভাইয়ের কবরটাও নদীতে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
উপার্জনক্ষম বদিয়ার রহমানের এক কন্যা সন্তান ও দুই ছেলে। ছোট ছেলে প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীসহ ছয় সদস্যের এই পরিবারের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। এর মধ্যে বসতভিটে ভাঙার আতঙ্কে দিন যাচ্ছে তার।
বদিয়ার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া টাকায় জমি কিনে বাড়ি করেছি, সেই বাড়িভিটে নদীর পানিতে ভাঙতে শুরু করেছে। এখন বাড়ি রক্ষায় উপায় নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভিটাটুকু রক্ষার আবেদন জানাচ্ছি।

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, সেই সময় ভূমিহীন বদিয়ার রহমানের অবস্থা জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আবেদন করলে তার নামে ১০ হাজার টাকার অনুদান মঞ্জুর হয়। পরে শুনেছি বদিয়ার রহমান ওই টাকা দিয়ে তার এলাকায় ২৪ শতাংশ জমি কিনে বসবাস করেন।
এ বিষয়ে কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সিঙ্গিমারি নদীর ভাঙনে বাউরা-পাটগ্রাম মহাসড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরে আবেদনও করেছি।
এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান বলেন, সিঙ্গিমারি নদীর ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এইচএ/এমএস