মা হলেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী, হাসপাতালে নিলেন ইউএনও
নাম পরিচয় বলতে পারেন না মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। কয়েক মাস ধরে থাকেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার রামপুর বাজারের একটি দোকানের সামনে ফেলে রাখা কাঠের চৌকিতে। তাকে পাগলি বলেই চেনেন এলাকাবাসী।
সোমবার (১২ জুলাই) সকালে চৌকিতে প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ওই নারী। এ অবস্থা দেখে তাকে বাজারের পেছনে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক গৃহবধূ। অনেক চেষ্টার পর জন্ম নেয় ফুটফুটে একটি ছেলে শিশু। এরপর নারীকে গোসল করিয়ে পরিষ্কার করেন সাবিনা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া পারভেজ। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তিনি।
সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ‘মেয়েটির এমন অবস্থা দেখে আমার খারাপ লাগে। অনেক মানুষ জড়ো হলেও কেউ তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসছিল না। এ অবস্থায় আমি তাকে উঠানে নিয়ে যাই।’
হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন এক পাগলি বাজারে সন্তান জন্ম দিয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে সেখানে যাই। শিশুটিকে দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। তাই তাকে কোলে তুলে নিই। নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা এক কঠিন বাস্তবতা। পাগলিরা মা হয় কিন্তু বাবাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। কাঁচা হাতে প্রসব করানোয় মায়ের কিছু সমস্যা হয়েছে। তাকে সেলাই দিতে হবে। কিন্তু মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সঠিকভাবে তাকে চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে না। ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন। তবে শিশুটি সুস্থ আছে।’
ইউএনও বলেন, ‘নবজাতক ও তার মায়ের চিকিৎসাসহ সবকিছুর দায়িত্ব নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সমাজসেবা অধিদফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর শিশুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া ওই নারীর নাম ঠিকানা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’
বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় লেবার ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় প্রতিবন্ধী মা ঘুমিয়ে আছেন। পাশের বিছানায় ঘুমিয়ে আছে সদ্য জন্ম নেয়া শিশুটি। তাকে সেবাযত্ন করছেন হাসপাতালের নার্স রেখা আক্তার।
তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মা ও শিশুটি এখানে আনা হয়। শিশুটি ভালো আছে। সে সুস্থ আছে। মা অস্বাভাবিক আচরণ করছে। ঠিকমতো শিশুটিকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো যাচ্ছে না। তবে চেষ্টা করছি তাকে দুধ খাওয়ানোর। শিশুটিকে দেখাশোনা করার কেউ নেই। তাই আমি এ দায়িত্ব পালন করছি।’
হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল শামীম বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর আমরা সার্বক্ষণিক নবজাতক ও মায়ের চিকিৎসায় তৎপর আছি। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় মাকে চিকিৎসা দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছি। শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে।’
নূর মোহাম্মদ/এসজে/এমকেএইচ