গ্রাহকদের ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনজিওর বিরুদ্ধে
বগুড়ার শাজাহানপুরে ‘মের্সাস খান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঋণ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এই প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
এ ঘটনায় সংস্থাটির ম্যানেজার সঞ্জিত কুমারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) আল-আমিন সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অপরদিকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল বাশার জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ওই সংস্থাটির মাঠকর্মীরা।
গ্রাহকদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জুন উপজেলার নয়মাইল বন্দর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ‘মের্সাস খান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) মাঠকর্মী নিয়োগ দিয়ে তার কার্যক্রম শুরু করে। এক লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে সঞ্চয় জমা নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে শত শত গ্রাহক সঞ্চয় জমা নেয়া হয়। কিন্তু কথামতো ঋণ না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (১২ জুলাই) বিকেলে গ্রাহকরা অফিসে এসে সংস্থাটির ম্যানেজার সঞ্জিত কুমারকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ম্যানেজারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে সবুজ নামের একজন গ্রাহক থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ম্যানেজার সঞ্জিত কুমারকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
সংস্থাটির মাঠকর্মী পারভীন বেগম জানান, তাদের ১৩-১৪ জন মাঠকর্মী আছেন। গ্রাহকদের প্রায় ১০ লাখ টাকা তারা অফিসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু এনজিও থেকে গ্রাহকদের ঋণ দেয়া হচ্ছিল না। এ কারণে গ্রাহকরা তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হন।
তিনি আরও জানান, এমডি আল আমিন অফিসের সবার সামনে বিএনপি নেতা আবুল বাশারকে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বলে পরিচয় করে দিয়েছিলেন। তার জানামতে বিএনপি নেতা আবুল বাশারের কাছে এনজিওর চার লাখ ১০ হাজার টাকা রয়েছে।
‘চাকরি করতে এসে আমরা প্রতারিত হয়েছি। এমডি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এদিকে গ্রাহকরা বাড়িতে এসে টাকা ফিরিয়ে দিতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি’—যোগ করেন সংস্থাটির মাঠকর্মী পারভীন বেগম।
বিএনপি নেতা আবুল বাশার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। নিজ দলের রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ তাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় ম্যানেজার সঞ্জিত কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমডি আল-আমিন পলাতক। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এসআর/জেআইএম