‘হুদা মাংস দিয়া কিতা করুম, সংসার চালাইতে টেহা লাগব’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৫:২৩ পিএম, ২১ জুলাই ২০২১

দেশব্যাপী উদযাপন হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি দিয়েছেন। কোরবানির পর মাংস বিতরণ করা হয় হতদরিদ্রদের মাঝে। এই মাংস আবার কেউ কেউ বিক্রি করে দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের টিএ রোডের তোফায়েল আযম মনুমেন্ট এলাকায় জমে উঠেছে এমনই একটি মাংসের অস্থায়ী বাজার।

বিকেল ৩টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, এখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাংস এনেছেন বিক্রি করতে। ক্রেতারাও কিনছেন দরদাম করে। আর যারা ক্রয় করছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই অন্য জেলার। চাকরির সুবাদে এখানে রয়েছেন। তারা কোরবানি না দেয়ায় এসব মাংস কিনে রান্না করবেন।

বাজারে মাংস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা মানুষের বাড়িতে কোরবানির পশুর মাংস বানাতে সহায়তা করে ও বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসব মাংস সংগ্রহ করেছেন।

Brahmonbaria-2.jpg

মাংস বিক্রি করতে আসা ফারুক মিয়া বলেন, ‘কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য আমার নাই। এক ব্যবসায়ীর বাড়িত কোরবানির মহিষ জবাই কইরা মাংস কাইট্টা দিছি। কাম শেষ হইবার পরে কিছু টেহা আর মাংস দিছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি থেইক্কাও মাংস দিছে। হুদা মাংসে কি পেট ভরব? সংসার চালাইতে টেহার দরকার আছে ঘরে। ইল্লিগা কুছু মাংস বেইচ্চা লাইতে আইছি।’

বিকাশ নামের আরও এক বিক্রেতা বলেন, ‘আমি পেশায় মুচি। আজ সকাল থেকে পরিচিত এক ভাইয়ের বাসায় কোরবানির মাংস কাটতে সহায়তা করেছি। সেখান থেকে আমাকে পারিশ্রমিকের পাশাপাশি কিছু মাংস দিয়েছে। সেই মাংস থেকে কিছু রেখে বাকি বিক্রি করতে এসেছি।’

ওই মাংসের বাজারে আসা আলাল উদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আমার বাড়ি রাজশাহীতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থেকে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করি। একদিন পর লকডাউন দেবে জানতে পেরে ঈদে আর বাড়িতে যায়নি। এই জেলায় আত্মীয়-স্বজন কেউ নেই। এখানে অনেকটা কমদামে মাংস বিক্রি করছে জেনে এসেছি।’

আবুল হাসনাত মো. রাফি/জেডএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।