‘আমাগো গরিবের আবার ঈদ?’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ২১ জুলাই ২০২১

‘আমাগো গরিবের আবার ঈদ? তিন বেলা খাইতেই পারি না। দুপুরে এক টোপলা গোশত পাইছি সমাজ থাইকা, সেই গোশত রাইধা নাতি নাতনিদের লইয়া দুই টুকরা মুখে দিছি।’

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী সাধুর বাজার তিস্তাপারের জহিরন নেছা (৫৫)। উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ছয়আনি গ্রামের সাধুর বাজার এলাকার বাঁধের রাস্তায় বসবাস করেন তিনি।

জানা গেছে, এক সময় বাড়ি ভিটাসহ আবাদী জমি সবই ছিল জহিরন নেছার। আজ তিনি নিঃস্ব। স্বামীর মৃত্যুর ১৫ বছর পর ২০১৬ সালে তিস্তা নদীর ভয়াববহ ভাঙনে হারিয়েছেন বসতবাড়ি ও আবাদী জমি। এরপর থেকে উপজেলার দোয়ানী সাধুর এলাকার একটি বাঁধের রাস্তায় ছেলে বাহাদুর মিয়া, ছেলের বউ এবং নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

EId-4.jpg

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাহাদুর মিয়া (৩৫) তিস্তা নদীতে মাছ ধরে সারাদিন যা আয় করেন তা দিয়ে মা ও স্ত্রী সন্তানসহ ছয়জনের পরিবার চালান।

স্থানীয় আব্দুল বারেক (৬০) বলেন, ‘বাঁধের রাস্তার পাশে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। ছয় বছর আগে তিস্তার ভয়াবহ বন্যায় ঘর-বাড়ি হারিয়ে বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নেয় ছিন্নমূল শতাধিক পরিবার। এখানকার সবাই আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও সবাই সরকারি সুযোগ সুবিধা পান না।’

EId-4.jpg

বাঁধের রাস্তা আশ্রয় নেওয়া মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘আমাগো কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই। যারা কোরবানি দিয়েছে তাদের দেয়া মাংস দিয়েই পোলাপানের মুখে একটু টুকরা গোশত তুইল্যা দিছি।’

বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নেয়া হাসিনা বেগম বলেন, ‘সমাজ থাইকা এক কেজি লাহান গোশত পাইছি। নিজে না খাইয়া নতুন জামাই বাড়িতে পাঠামু।’

EId-4.jpg

ছয়আনী গ্রামের রুপবান নেছা বললেন, ‘কোরবানি দেয়ার আমাগো কোনোদিনও সামর্থ হয় না। দিন আইনা দিন খাই।’

তিস্তার ভাঙনে শতশত পরিবার এভাবে ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। এই পরিবারগুলোর মাঝে ঈদের আনন্দ নেই। ঈদের দিনও তাদের জন্য আর সাধারণ ১০টা দিনের মতোই। সরকারি সহযোগিতা পেলে কিছুটা উপকার হবে বলে জানিয়েছে পরিবারগুলো।

এমআরআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।