ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলছে বাস, রাস্তা থেকেই তোলা হচ্ছে যাত্রী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২১

১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের প্রথমদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে এ বাসগুলো তুলছে যাত্রী।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় এ চিত্র দেখা গেছে মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকায়।

সরেজমিন মহাসড়কের এ অংশের উত্তরবঙ্গ ও ঢাকা লেনে দেখা যায় একই চিত্র। যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী অংশে বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া পিকআপ ও থ্রি হুইলারে চলাচল করছেন যাত্রীরা। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলেও চলাচল করছেন তারা। মহাসড়কে ভোর থেকেই এ অবস্থা বিরাজমান।

মহাসড়কে পরিবহনের জন্য অপেক্ষমান টাঙ্গাইলের হাটুভাঙা এলাকার সুতা তৈরির কারখানা নাইট গ্রুপে কর্মরত শ্রমিক সিফাত বলেন, ‘ঈদের পাঁচদিনের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলাম। শুক্রবার রাত থেকে আমার ডিউটি শুরু। তাই কর্মস্থলে যোগদান করতে যাচ্ছি। মহাসড়কে বাস পাওয়া গেছে। তবে ভাড়া চাচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। হাটুভাঙা পর্যন্ত ভাড়া ৫০ টাকা হলেও বাসে ভাড়া চাচ্ছে ৫০০ টাকা। তাই তিনি অন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।’

jagonews24

বিধিনিষেধে চলাচল আর ভাড়া বেশি কেন নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিশা স্পেশাল বাসের সহকারী রফিক বলেন, ‘মহাসড়কে বাস কম চলছে। পেটের দায়ে আর পুলিশের মামলার ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলাচল করছি। তাই ভাড়া একটু বেশি নেয়া হচ্ছে।’

আশেকপুর বাইপাস এলাকায় কর্তব্যরত টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের অ্যাসিস্টেন্ট টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) হেলাল উদ্দিন বলেন, ভোর থেকেই মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চলাচলরত বাস গলোকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছেনা?- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাস চলাচল বন্ধে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ। আমি যানজট নিরসনের দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া আমার মামলা দেয়ার এখতিয়ার নেই।

jagonews24

এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের নাইট কোচগুলো ভোরের দিকে মহাসড়কে প্রবেশ করেছে। আমরা ও জেলা পুলিশ বিধিনিষেধ না মানায় মামলা দেয়াসহ যাত্রী নামিয়ে বাসগুলো ঘুরিয়ে দিচ্ছি।

এছাড়া মহাসড়কে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা পিকআপ ভ্যান ও থ্রি হুইলারের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ-পূর্ববর্তী ব্যবসা পরিচালনা ও দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখার জন্য গত ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার। এরপর করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধের নির্দেশনা দেয় সরকার।

আরিফ উর রহমান টগর/এসএমএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]