বিধিনিষেধেও সাউন্ডবক্সে গান বাজিয়ে নৌভ্রমণ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১

চলমান কঠোর বিধিনিষেধ অমান্য করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্থানীয় নদীর পাড়, সংলগ্ন সেতু ও সবুজে আচ্ছাদিত জায়গায় ভিড় করছেন বিনোদনপ্রেমীরা। কিশোর ও তরুণরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বক্সে গান বাজিয়ে করছেন নৌভ্রমণ। এতে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। কেউ মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। অনেকের মুখে ছিল না মাস্কও।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী রিসোর্ট, সদরের পাহাড়পুর ব্রিজ, বংশাই নদীর ত্রিমোহন, বুধিরপাড়া-চান্দুলিয়া নবনির্মিত সড়ক, মির্জাপুর রেলস্টেশন, ধেরুয়া রেলক্রসিং ও জলকুটির, দেউলীপাড়া সেতু এবং নবনির্মিত খাটিয়ারঘাট-কালিয়াকৈর সড়কের কবিরকুড়ি জলকুটির ও ব্লকের স্থান মানুষের ভিড়ে বেশ সরগরম।

উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং পিকআপযোগে বিকেলে বিনোদনপ্রেমীরা আসছেন। শিশু, কিশোর, তরুণ ও বৃদ্ধদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এসব স্পট।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে আসা মানুষ সেতুপাড়ের বর্ষাস্নাত প্রকৃতি, মনোরম দৃশ্য এবং পাহাড়ি এলাকায় বিশাল চকের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নবনির্মিত সড়ক দেখে মুগ্ধ হন। অস্থায়ী বিনোদন কেন্দ্র হয়ে ওঠা এসব এলাকায় প্রায় সময় দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ আসেন। তবে বিধিনিষেধেও দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

jagonews24

বিকেলে বুধিরপাড়া এলাকায় দেখা মিলল যুবকদের কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। তারা জেনারেটরের সাহায্যে বক্সে গান বাজিয়ে নৌকায় নেচে-গেয়ে হৈ-হুল্লোড় ও আনন্দ করছেন। জানালেন, কোথাও বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্ধুরা নৌকা ভাড়া করে এই এলাকায় সময় কাটাতে এসেছেন।

তরফপুর ইউনিয়নের শিমুলতলী রিসোর্ট নামক স্থানে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসেছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটু ঘুরতে বেরিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করি। দীর্ঘ ছুটি পেয়েছেন। পরিবার নিয়ে একটু বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছি।’

jagonews24

কী কারণে ছুটি পেয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘করোনা থেকে মুক্ত থাকতে কারখানা বন্ধ দিয়েছে।’ তাহলে এতো মানুষের ভিড়ে ঘুরতে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘গ্রামে তো তেমন করোনা রোগী নেই।’ এই বলে তিনি চলে যান।

এদিকে, শনিবারও (২৪ জুলাই) ওইসব স্পটে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এসব বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে সবাইকে সচেতন হয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। জনসমাগম এলাকার ওইসব স্পটে অভিযান চালানো হবে।’

এস এম এরশাদ/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।