ঝিনাই নদীর ভাঙন আতঙ্কে বাসাইলের ৫ শতাধিক পরিবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২১

টাঙ্গাইলের বাসাইলে গত এক সপ্তাহে ঝিনাই নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০-১৫টি বাড়ি ও ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ফলে অনেকেই বাড়ি-ঘর ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে হয়েছেন আশ্রয়হীন। এছাড়াও পাঁচ শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে বিলপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া বীর নিবাসটিও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ উপজেলার নদী তীরবর্তী ফুলকি, কাশিল, কাঞ্চনপুর ও হাবলা ইউনিয়নের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার অন্তত ২০টি গ্রামে ইতোমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুলকি ইউনিয়নের দোহার, হাকিমপুর, জশিহাটি ও একঢালা। কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর, দেউলী, কামুটিয়া, নর্থখোলা, কাশিল, থুপিয়া, নাকাছিম ও বিয়ালা। কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কাজিরাপাড়া, বিলপাড়া, মানিকচর ও আদাজান।

এসব এলাকায় ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে পাকা সড়ক, খেলার মাঠ, হাট-বাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সারা বছরই ঝিনাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রতি বছর এই নদী থেকে ব্যাপকহারে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। অবৈধ উত্তোলন বন্ধে দায়সারা দু-একটি অভিযান ছাড়া প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যময়।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া এলাকার খসরু খান জানান, আমার ভিটেবাড়ি যেটুকু ছিল সবই নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে বসবাস করার মতো জায়গাটুকুও নেই।

jagonews24

ফুলকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল এ বিষয়ে বলেন, ‘ঝিনাই নদীর তীরবর্তী দোহার, হাকিমপুর, জশিহাটি পশ্চিমপাড়া ও একঢালা এলাকার প্রায় ১০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দোহার পয়েন্টে ভাঙনকবলিত বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে।’

বাসাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, ‘গত বর্ষায় কামুটিয়া পয়েন্টে ভেঙে যাওয়া ঝিনাই নদীরক্ষা বেড়িবাঁধটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহেই শুরু হয়েছে দোহার পয়েন্টে বাঁধ সংস্কারের কাজ।’

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঝিনাই নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ অব্যাহত আছে। নতুন করে ভাঙনকবলিত পয়েন্টগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতি বছর ভাঙন রোধে অস্থায়ী বাঁধ করে শুধু টাকাই অপচয় হচ্ছে। নদীর এ ভাঙন রোধে স্থায়ী পরিকল্পনা নেয়া জরুরি। অহেতুক টাকা অপচয় ঠেকাতে ও নদীভাঙন রোধের স্থায়ী প্রকল্প পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এমএইচআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]