সিরাজগঞ্জে পৃথক ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৪ জনের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ এএম, ২৯ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গৃহবধূ, সলঙ্গায় কাভার্ডভ্যান চাপায় ব্যাংক কর্মকর্তা ও তাড়াশে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক বৃদ্ধাসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। বুধবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জেলার উল্লাপাড়া, সলঙ্গা ও তাড়াশ উপজেলায় পৃথক স্থানে এ ঘটনাগুলো ঘটে।

নিহতরা হলেন- শাহজাদপুর উপজেলার পুকুরপাড়া গ্রামের তাইজুল হকের মেয়ে তানিয়া খাতুন (২৫), রংপুরের কাউনিয়া থানার নিগদারপা গ্রামের মৃত ইব্রাহিম শেখের ছেলে আবু জাওয়াদ, তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের ধরইল বাজারে ব্র্যাক ব্যাংকের সিও-প্রগতি হিসেবে কর্মরত ছিলেন; তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের ভাদাস গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের স্ত্রী শাহেরা বেগম (৬৫) ও একই উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে সিএনজিচালক রুহুল আমিন (৪০)।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস জানান, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বুধবার রাতে শ্যামলীপাড়ায় সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে তানিয়া (২৫) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তাড়াশের মাধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেরাত আলী জানান, বৃদ্ধা শাহেরা বেগমের বাড়ির গোয়ালঘরের টিন বিদ্যুতায়িত ছিল। বুধবার দুপুরের দিকে গোয়ালঘর থেকে তিনি গরু বের করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, বুধবার বেলা ১১টার ব্যাংক কর্মকর্তা আবু জাওয়াদ হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে মোটরসাইকেলযোগে হরিণচড়া বাজারের রাস্তা পার হচ্ছিলেন। বিপরীত থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে জাওয়াদ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে আবু জাওয়াদ মারা যান। এ ঘটনায় চালক ও কাভার্ডভ্যানকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে তাড়াশের তালম ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, সকালে সিএনজিচালক রুহুল আমিন তাড়াশের রানীহাট থেকে যাত্রী নিয়ে বগুড়ার শেরপুরে যাচ্ছিলেন। পথে করিমপুর তেঘরি এলাকায় তার সিএনজির এক্সেল ভেঙে তিনিসহ চারজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চালককে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সিএনজিতে থাকা আরও তিনজন যাত্রী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের শেরপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/বিএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]