‘কারখানায় না গেলে পাওয়া ছুটি অনুপস্থিত দেখাবে কর্তৃপক্ষ’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২১

কারও হাতে বা কাঁধে ব্যাগ, কেউবা লাগেজ টেনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, আবার কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে মাথায় বোঝা বহন করে ক্লান্ত শরীরে ধীরগতিতে এগিয়ে চলছেন গন্তব্যে। উদ্দেশ্য রোববার (১ আগস্ট) থেকে পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দিতে হবে। কারণ, কাজে যোগ না দিলে হারাতে হতে পারে চাকরি। সেই ভয়ে যত কষ্টই হোকে গ্রাম থেকে নানা দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে গাজীপুরে ছুটে আসছেন হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক-কর্মচারী।

চলমান বিধিনিষেধে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা পিকআপ, ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও রিকশায় বাড়ি থেকে রওয়া হয়েছেন। যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটে ছুটছেন গন্তব্যের পথে। আবার অনেকে গাড়ি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে জড়ো হয়ে অপেক্ষা করছেন দীর্ঘক্ষণ। করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি থাকলেও এসব শ্রমিকের কাছে চাকরি রক্ষা করাটা বেশি প্রয়োজন বলে জানান তারা।

শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায় পোশাক শ্রমিকদের ভিড়। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহের নেত্রকোনা, শেরপুর ও জামালপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসছেন তারা।

jagonews24

দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কথা হয় বেশ কয়েকজন পোশাক শ্রমিকের সঙ্গে।

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার মোবারকপুর এলাকা থেকে এসেছেন আলী হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি গাজীপুর মহানগরীর একটি পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর পদে চাকরি করেন।

আলী হোসেন বলেন, ‘ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছি। দুপুর ১টায় চৌরাস্তা এলাম। কারখানা খুলছে তাই চলে আসলাম। রোববার কারখানায় উপস্থিত না হতে পারলে যে কয়দিন ছুটি পেয়েছি সে কয়দিন অনুপস্থিত দেখাবে কর্তৃপক্ষ। উপায় নেই। এ কারণে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই আসতে হয়েছে।’

শেরপুর থেকে আসা দুই ভাই রিয়াজ উদ্দিন ও মিরাজ উদ্দিন জানালেন, ভোর সাড়ে ৪টায় শেরপুর শহর থেকে গাজীপুরের টঙ্গীর উদ্দেশে রওয়ানা দেন। দুপুর পৌনে ১টার দিকে সোয়া আট ঘণ্টায় চান্দনা চৌরাস্তা এসে পৌঁছান। সারাপথ দুইভাই রিকশায় করে এসেছেন। এতে দুজনের খরচ হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। এখন টঙ্গী যেতে হবে। টঙ্গী যেতে রিকশায় ভাড়া চাচ্ছে ৩০০ টাকা করে।’

jagonews24

গাজীপুরের স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টসে চাকরি করেন করেন জয়নুল আবেদীন। এ পোশাককর্মী বলেন, ‘রোববার সময়মত যদি গার্মেন্টসে পৌঁছাতে না পারি তাহলে চাকরি থাকবে না। অনেকটা বাধ্য হয়েই কর্মস্থলে আসা।’

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘হাজারও শ্রমিক আসছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। পরিবহন বন্ধ। এর মধ্যে যে কয়েকটা ছোট ছোট পরিবহন সড়কে আছে, সেখানে ভিড়ের জন্য পা ফেলা যাচ্ছে না। এর মধ্যেও আমরা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। মাইকিং করছি, হাত ধোয়ার, মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি। আজকের পর ভিড় থাকবে না বলে মনে হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য উৎপাদন করে শিপমেন্ট না করতে পারলে এয়ার শিপমেন্ট করতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। অনেক পোশাক কারখানার অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ মুহূর্তে কারখানা খোলা না হলে আমাদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হবে। সময় মতো কারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের বেতনভাতা এবং ভবন মালিকদেরও ভাড়া দিতে পারব না। বায়াররা অর্ডার বাতিল করে দিতে পারে। এতে আরও ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।’

মো. আমিনুল ইসলাম/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]