ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলছে গণপরিবহন
চলমান লকডাউনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কুমিল্লায় অবাধে চলছে গণপরিবহন।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা যায়, মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে জরুরি পরিবহন ছাড়াও যাত্রী নিয়ে অবাধে চলছে বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এমনকি বেশি ভাড়ায় কাভার্ডভ্যানেও যাত্রী তুলতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পরিবহনে ভাড়ায় যাত্রী নেয়া হচ্ছে। পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৬০০-১২০০, চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৭০০-১০০০, চাঁদপুর ও ফেনী পর্যন্ত ৩০০-৫০০, চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১৫০-২০০ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এনিয়ে চালক ও হেলপারদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় অনেক যাত্রীকে।
মো. রাসেল মিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, ‘কম ভাড়ায় ঢাকা যেতে দেড় ঘণ্টা বেশি সময় দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কেউ নিচ্ছেন না। চালকরা সবাই এক হয়ে অনেক বেশি ভাড়া দাবি করছেন। যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত মাইক্রোবাসে ভাড়া চাচ্ছে এক হাজার আর প্রাইভেটকারে ১ হাজার ২০০ টাকা। একটু দেখবো, না হয় বাড়ি ফিরে যাবো।’

এনামুল হক সবুজ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের অলঙ্কার থেকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড আসতে ৮০০ টাকা দিতে হয়েছে। পরিবহন চালকরা জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।’
হাসিনা বেগম নামে এক নারী যাত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় ডাক্তারের কাছে এসেছি, এখন চৌদ্দগ্রাম যাব। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া চাচ্ছে ২০০ টাকা। অথচ সকালে ১৫০ টাকায় এসেছি।’
নাঈমুল ইসলাম ফাহাদ নামে এক মাইক্রোবাসচালক বলেন, ‘একদিকে করোনা অন্যদিকে পুলিশের অভিযানের কারণে আমাদের কিছু করার নেই। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ তৎপর। চৌদ্দগ্রামের বাবুর্চি বাজার, কুমিল্লা সদরের ময়নামতি, চান্দিনার ইলিয়টগঞ্জ ও দাউদকান্দির বলদাগাল এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
জাহিদ পাটোয়ারী/এএইচ/এএসএম