চোখ হারানো গোলাপের সংসার চলে গান গেয়ে

লিপসন আহমেদ লিপসন আহমেদ , সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৫৭ পিএম, ০৪ আগস্ট ২০২১

সুনামগঞ্জ সদরের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাইয়ারগাঁও গ্রামে বসবাস ৬৮ বছর বয়সী বাউল গোলাপ মিয়ার। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৬ বছর বয়সে গোলাবারুদের ধোঁয়ায় তার দুই চোখ একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। এক স্কুলশিক্ষক থেকে শুনে শুনে আয়ত্ত করেন গান। প্রায় তিন যুগ ধরে সুনামগঞ্জের রাস্তাঘাট, ফেরি ও নৌকায় বেহালা এবং সরাজ বাজিয়ে গান গাইছেন তিনি।

বাউল গোলাপ মিয়ার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্য ছেলেমেয়েদের মধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ে লেখাপড়া করছেন। গান শুনিয়ে স্রোতাদের কাছ থেকে ৫-১০ টাকা করে যা পান তা দিয়েই চলে সংসার। তার মাথা গোঁজার একমাত্র ঘরটির জরাজীর্ণ অবস্থা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তা খরচ হয় সংসারের পেছনেই। এতে ঘরটিও মেরামত করতে পারেননি এই বাউলশিল্পী। ফলে ছয় মাস ধরে পরিবার নিয়ে থাকছেন বড় মেয়ের বাড়িতে। এখন শুধু তার চাওয়া একটি সরকারি ঘর।

sun1

গোলাপ মিয়ার গানের স্রোতা ও প্রতিবেশীরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে বাউল গোলাপ মিয়া আগের মতো গান গাইতে পারে না। এতে তার আয়ও হচ্ছে না। দুঃখ কষ্টে জীবন-যাপন করছেন তিনি।

তাদের দাবি, তার নিজের একমাত্র বাড়িতে থাকার উপক্রম নেই। থাকেন মেয়ের বাড়িতে। তাকে সরকারি একটি ঘর দেয়া হলে বৃদ্ধ বয়সে কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।

গোলাপ মিয়ার মেয়ে চাঁনমালা খাতুন বলেন, ‘বাবার বসতঘর ভাঙাচোরা থাকায় গত ছয় মাস ধরে ভাই-বোন সবাই আমাদের বাড়িতে থাকছে।’

sun1

বাউল গোলাপ মিয়া ও তার স্ত্রী হোসনে আরা জানান, নিজেদের ছোট্ট একটি বাড়ি ও বসতঘর আছে। কিন্তু ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। জরাজীর্ণ ঘরটি ভেঙে পড়ার উপক্রম। বাঁশের খুঁটি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। ছেলে-মেয়েসহ সবাইকে নিয়ে থাকছেন মেয়ের বাড়িতে। তাদের সরকারি একটি ঘর দিলে কষ্ট দূর হতো।

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম মানিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি গোলাপ মিয়া রাস্তাঘাটে ও নৌকায় গান গেয়ে সংসার চালাচ্ছে। তার ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। একটি সরকারি ঘর পাওয়া তার প্রাপ্য ছিল।’

sun1

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে অন্ধ বাউলশিল্পী গোলাপ মিয়াকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং চাল, ডাল ও চিনিসহ খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। শুনেছি তার ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মুজিববর্ষের ঘর দেয়া আপাতত শেষ। নতুন ঘর আসলে তাকে একটি ঘর দেয়া হবে। এছাড়া লকডাউন শেষে তাকে ত্রাণসহায়তা দেয়া হবে।’

লিপসন আহমেদ/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।