‘তালাক না দেয়ায়’ ৬ বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করালেন স্বামী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ০৪ আগস্ট ২০২১

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বন্ধুদের দিয়ে স্ত্রীকে (২৪) দল বেঁধে ধর্ষণ করানোর অভিযোগে উঠেছে সোহেল নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার (৪ আগস্ট) সোহেলসহ তার তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সড়ক থেকে তুলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে সাতজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি হাতিয়া থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ওই নারী।

গ্রেফতাররা হলেন-স্বামী মো. সোহেল, তার বন্ধু মাকসুদুল হকের ছেলে মো. হকসাব (৩৩), সাইফুল হকের ছেলে রাশেদ উদ্দিন (২৫) ও এনায়েত মাঝির ছেলে মো. আকতার হোসেন (৩৪)।

মামলা সূত্র জানায়, ওই গৃহবধূ কাজ করার সুবাদে চট্টগ্রামে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার নিজ এলাকা হাতিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার দুই বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে হাতিয়ার মুক্তারিয়াঘাট থেকে ট্রলার যোগে রওনা দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বন্দরটিলা ঘাটে গিয়ে পৌঁছান। ঘাটে নেমে ভাড়ায় চালিত একটি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।

কিছুপথ যাওয়ার পর তার স্বামী সোহেলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করে তাকে নামিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলেন। পরে তারা ওই গৃহবধূকে সিডিএসপি বাজারের পার্শ্ববর্তী বান্ধাখালি এলাকার মেঘনা নদীর তীরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আটকে রেখে রাত ১২টা পর্যন্ত সোহেল, হক সাব, রাশেদ, আক্তারসহ সাতজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

এক পর্যায়ে মুখের বাঁধন খুলে গেলে চিৎকার করেন গৃহবধূ। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ধর্ষণকারী অন্যরা পালিয়ে গেলেও স্বামী সোহেলকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে নিঝুমদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূকে উদ্ধার করে।

পরে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি হাতিয়া থানায় অবগত করলে নিঝুমদ্বীপে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হক সাব, রাশেদ ও আক্তার হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা ওই নারী সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী। গত কয়েকদিন ধরে গৃহবধূর কাছ থেকে তালাক নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকেন সোহেল। কিন্তু তাতে ওই নারী রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত ছিলেন সোহেল। পরে তার আসার খবর পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে পথে ওতপেতে থাকেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনেয়ারুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে, শারীরিক পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]