বগুড়ায় করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল কর্মকর্তার ওপর হামলা
বগুড়ার করোনা বিশেষায়িত মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজলের ওপর হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২টি মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বিকেলে বগুড়ার নিশিন্দারা উপশহরে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- শহরের আলিফ ক্লিনিকের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক বিপ্লব, জুবলি হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক হারুনার রশিদ ও শহরের নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী নাজমুস সাকিব।
ডা. কাজল অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে তার গ্রামের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূলে যান কয়েকজন ব্যক্তি। তারা সেখানে তার পৈত্রিক জায়গায় নির্মিত দোকানগুলো নিজেদের বলে দাবি করেন এবং দোকানের ভাড়া তাকে দিতে নিষেধ করেন।
দোকানিরা বিষয়টি ডা. কাজলকে জানালে তিনি ওই লোকদের পরিচয় জানতে চান। তখন একজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দেয়া হয়। ওই ব্যক্তি মোবাইলে নিজেকে আমর্ড ব্যাটালিয়ন পুলিশের (এপিবিএন) পরিদর্শক মনির পরিচয় দেন। পরে তারা ৬ জন তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে বিকেলে ৫টায় কাজলের বাসার সামনে যান। তাদের একজনের মোটরসাইকেলে পুলিশের স্টিকার লাগানো ছিল বলে জানান কাজল।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কর্মকর্তা কাজল জানান, ওই লোকগুলো তাকে বাসা থেকে ডেকে বের করে গ্রামের ওই জমিটি তাদের বলে দাবি করেন। তিনি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় তিনি তার মোবাইলে ছবি ধারণ করতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মোবাইল কেড়ে নিয়ে কাজলকে মারপিট শুরু করেন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে ২টি মোটরসাইকেলসহ হামলাকারীদের মধ্যে তিনজনকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়। তবে পুলিশ পরিদর্শক পরিচয়দানকারী মনিরসহ তিনজন পালিয়ে যান।
এদিকে বগুড়া আমর্ড ব্যাটালিয়ন পুলিশের (এপিবিএন) সহকারী পুলিশ সুপার ছকির উদ্দিন জানান, মনির নামে তাদের কোনো পুলিশ পরিদর্শক নেই।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ডা. কাজল এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেডএইচ/এমকেএইচ