ঈদ এলে প্রতিবছর চন্দ্রাতে কেন যানজট লেগে থাকে

আমিনুল ইসলাম
আমিনুল ইসলাম আমিনুল ইসলাম , জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর গাজীপুর
প্রকাশিত: ১২:১০ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬

প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যানজটের কবলে পড়তে হয় ঘরমুখো মানুষদের। যানজট দূর করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ২৪ ঘণ্টাই প্রাণপণ চেষ্টা করতে হয়। যানজটের কারণ চিহ্নিত করতে প্রতিবছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টরা নানা পরিকল্পনা করে থাকেন। কিন্তু সব পরিকল্পনা যাত্রী আর পরিবহনের চাপে ভেস্তে যায়। যানজট নিরসনে এবারও নানা পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চন্দ্রা এলাকার যানজট নিরসনে ফ্লাইওভার তৈরি করা হলেও এ ফ্লাইওভার পুরোপুরি কার্যকর হয় না। অনেক সময় ফ্লাইওভারের ওপর যানজট লেগে থাকে।

জানা গেছে, চন্দ্রাতে যানজটের শুরু হয় দুদিক থেকে। একটি হচ্ছে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা ভোগড়া বাইপাস থেকে, অপরটি হচ্ছে আশুলিয়া নবীনগরের দিক থেকে। পুলিশ জানায়, ঢাকার মতিঝিল, আরামবাগ, মিরপুর ও গাবতলী থেকে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীবাহী বাসগুলো নবীনগর ও আশুলিয়া হয়ে চন্দ্রা দিয়ে উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করে। আর আব্দুল্লাহপুর ও গাজীপুরের দিক থেকে যাত্রীবাহী বাসগুলো চান্দনা চৌরাস্তা ও ভোগড়া বাইপাস দিয়ে চন্দ্রা হয়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে যায়। আবার টাঙ্গাইলের দিক থেকে কিছু বাস ঢাকায় প্রবেশ না করে চন্দ্রা দিয়ে ঘুরে আবার টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে যায়। এতে চতুর্মুখী চাপে চন্দ্রাতে যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঈদ এলে প্রতিবছর চন্দ্রাতে কেন যানজট লেগে থাকে

এছাড়া কলকারখানা ছুটি হলে একসঙ্গে যাত্রীরা সড়কে নেমে পড়েন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। এতে বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়। জনজট আর পরিবহনের জটলার ফলে চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কোনো কারণে কয়েক মিনিটের জন্য মহাসড়কে যানবাহন স্থির থাকলে পিছনে কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক যাত্রী আর পরিবহনের উপস্থিতির কারণে যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়।

চান্দনা চৌরাস্তা থেকে পরিবহন ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে উত্তরাঞ্চলের দিকে যায়। ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় এসব যানবাহন যানজটের কবলে পড়ে। অপরদিকে নবীনগর ও আশুলিয়া দিয়ে যেসব যানবাহন উত্তরাঞ্চলের দিকে যায়, সেগুলো ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে যায়। আর নিচে থাকে উত্তরাঞ্চলগামী অসংখ্য যানবাহন, যারা যাত্রী ওঠানোর জন্য অপেক্ষা করে। আর সব যাত্রী নিচে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে বাসে ওঠার জন্য। এসব কারণে নিচে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিবহন ও মানুষের জটলা নিরসন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। ব্যাপক যানবাহন ও জনসমাগমের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

কালিয়াকৈর চন্দ্রা এলাকার ব্যবসায়ী আলমাস হোসেন বলেন, প্রতিবছর চন্দ্রা একটি দুর্ভোগের নাম। ঈদ এলে চন্দ্রায় যানজটের দিকে সবার নজর থাকে। কিন্তু আগের তুলনায় যানজটের প্রবণতা অনেক কম। আগে একই স্থানে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে থাকত। এখন যানজট এত দীর্ঘ হয় না। তবে দুই-তিন ঘণ্টা অনেককে একই স্থানে যানজটের কারণে আটকে থাকতে হয়।

ঈদ এলে প্রতিবছর চন্দ্রাতে কেন যানজট লেগে থাকে

পরিবহন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, টাঙ্গাইলের দিকে কোথাও কোনো কারণে সড়কে যানবাহন বিকল, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হলে এর প্রভাব চন্দ্রায় গিয়ে পড়ে। ঘণ্টায় যে পরিমাণ যানবাহন উত্তরাঞ্চলের দিকে যায়, কয়েক মিনিটের যানজটে তা কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়।

রংপুরগামী বাসের চালক সেলিম হোসেন বলেন, ঈদের সময় যাত্রীর সংকট হয় না। অনেক সময় পরিবহনের সংকট হয়। যে পরিমাণ বাস উত্তরাঞ্চলের দিকে যায়, সে পরিমাণ বাস ফিরে আসে না। ফলে সড়কে যাত্রীদের চাপ বাড়ে। মানুষ বাধ্য হয়ে ট্রাক, পিকআপ বা অন্য কোনো যানবাহনে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যায়। ফলে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

গাজীপুর নাওজোর কোনাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক শওগাতুল আলম বলেন, চন্দ্রার যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে। আশা করছি যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফ উদ্দিন বলেন, ঈদে পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে। সড়কের সামগ্রিক পরিস্থিতি নজরদারিতে থাকবে। এবার ঈদের চারদিন আগে ছুটি হয়ে যাবে। এ সময় একেক দিন একেক কারখানা ছুটি হবে। ফলে যানজট হওয়ার আশঙ্কা কমবে। এছাড়া ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়। আগের অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হবে। যাত্রীরা যানজটমুক্ত পরিবেশে আনন্দে বাড়ি যেতে পারবেন।

মো. আমিনুল ইসলাম/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।