ব্যবসায়িক পার্টনারের তথ্যেই স্বর্ণ ডাকাতির ছক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০২:০৫ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০২১

ফেনীতে স্বর্ণের বার ডাকাতি মামলার রহস্যের জট ক্রমেই খুলতে শুরু করেছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপালের এক সময়ের পার্টনার ভূট্টুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর তদন্ত কর্মকর্তারা অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলাতে পারছেন।

রোববার (১৫ আগস্ট) ফেনী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

এদিকে, দাফতরিক আদেশের প্রেক্ষিতে রোববার মামলার যাবতীয় নথি বুঝে নেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহআলম। এর আগে মামলার তদন্তে ছিলেন ফেনী মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক মো. মনির হোসেন।

পুলিশ, মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৮ আগস্ট বিকেলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনীর ফতেহপুর এলাকায় ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাসের গাড়ি থামিয়ে ২০ স্বর্ণের বার লুটে নেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা।

এ বিষয়ে গোপাল ১০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টায় ফেনী মডেল থানায় ডাকাতি মামলা করেন। ওই রাতেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইফুল ইসলামের বাসার আলমারি থেকে ১৫ স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় ঘটনায় অভিযুক্ত ডিবির ওসি মো. সাইফুল ইসলাম, এসআই মোতাহের হোসেন, এসআই নুরুল হক, মিজানুর রহমান, এএসআই অভিজিত বড়ুয়া ও মাসুদ রানাকে।

১১ আগস্ট তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করলে ওসির চার ও বাকিদের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ১৪ আগস্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যের রিমান্ড শেষে পুনরায় তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

পরদিন ১৫ আগস্ট পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওসি সাইফুল ইসলামের আরও চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গ্রেফতার হওয়া ছয় পুলিশ সদস্যের রিমান্ডে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যে কিছুটা ধোঁয়াশায় পড়েন তদন্তকারী কর্মকর্তা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপালের এক সময়ের ব্যবসায়িক পার্টনার ছমদুল করিম ভূট্টু চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতেই নানা তথ্য বেরিয়ে আসে। তবে অভিযোগকারী গোপালের স্বর্ণের পরিমাণ, সংখ্যা, বৈধতা ও উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

এদিকে মামলার বাদী গোপাল কান্দি দাস জানান, ফেনীর গোয়েন্দা পুলিশ তার কাছ থেকে ২০ স্বর্ণের বার ডাকাতি করে। এসব স্বর্ণের ওজন দুই কেজি ৩৩০ গ্রাম। যার বাজার মূল্য এক কোটি ২৭ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৬ টাকা।

ছমদুল করিম ভূট্টুর জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত সূত্র জানায়, তিনি এবং গোপাল দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের হাজারী লেনের ইকুইটি কোহিনুর মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘আলো জুয়েলার্স’ নামের একটি স্বর্ণ দোকান পরিচালনা করতেন। ব্যবসায়িক বনিবনা না হওয়ায় তারা কয়েক মাস আগে পৃথক হয়ে যান। পরবর্তীতে ভূট্টুর দেয়া তথ্য ও পরিকল্পনায় ফেনী ডিবি পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রামের ফতেহপুরে গোপালের গাড়ি আটক করে স্বর্ণের বার নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ীর করা মামলায় এরই মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পুলিশের ছয় কর্মকর্তার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড চলছে। বাকি অপরজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলার তদন্তের বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সজাগ ও সতর্ক রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অপরাধীদের পার পাবার সুযোগ থাকবে না।

নুর উল্লাহ কায়সার/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।