সিনহা হত্যা মামলা: দুই দিনে বাদীকে ১২ ঘণ্টা জেরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০২:৪০ এএম, ২৫ আগস্ট ২০২১
ফাইল ছবি

সিনহা হত্যা মামলার আসামি লিয়াকতের পক্ষে জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হলো টানা ২ দিন বাদীর সাক্ষ্য ও জেরা। এ নিয়ে আসামিদের আইনজীবীরা বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসকে ১২ ঘণ্টা জেরা করেছেন।

প্রথম দিন বাদীসহ ৩ জন হাজিরা দিলেও বাদীর জেরা শেষ না হওয়ায় বাকীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার প্রথম দিনের অসমাপ্ত জেরা সকাল সোয়া ১০টা থেকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে।

শুরুতেই মামলার অন্যতম আসামি প্রদীপের পক্ষে বাদীকে জেরা করেন আইনজীবীরা। জেরার সময় বাদীকে মামলার মেরিটের বাইরেও বেশ কিছু প্রশ্ন করে বিব্রত করার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবীরা।

বাদীর জেরা শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনের অন্য কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেননি আদালত। ফলে বুধবার বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের প্রচেষ্টা চলবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ফরিদুল আলম।

পিপি বলেন, ‌‘সোমবার (২৩ আগস্ট) মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস সিনহা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাক্ষী দেন। সেদিনই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ৫ ঘণ্টা জেরা করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে অসমাপ্ত জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।’

মামলার বাদী ও নিহত সিনহা মো. রাশেদের বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস আদালতকে বলেন, ‘টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে খুন হন সিনহা মো. রাশেদ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ জেনে গত বছরের ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তিনি অভিযুক্ত ১৫ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন আদালতের কাছে।’

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন মামলার অন্যতম আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৫ আসামি।

এর আগে সকাল সোয়া নয়টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয় সিনহা হত্যা মামলার ১৫ আসামিকে।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ সড়কের এপিবিএন’র চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর অব. সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ঐ বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।

সায়ীদ আলমগীর/এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - jago[email protected]