ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, বিয়ের সিদ্ধান্ত দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার শিবগঞ্জে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের ধর্ষণে এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে সেই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বিয়ের মাধ্যমে আপস করার সিদ্ধান্ত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোখলেছার রহমানের বিরুদ্ধে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলামের ছেলে তারাজুল ইসলামের (২০) সঙ্গে সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া দূর সম্পর্কের আত্মীয় ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা দৈহিক সম্পর্কে গড়ায়। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে উভয় পরিবারে বিষয়টি জানাজানি হয়।

গত শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) গর্ভপাত ঘটাতে গেলে ওই কিশোরী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ওই দিনই তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ নিয়ে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোখলেছার রহমান দুপক্ষের অভিভাবকদের নিয়ে বসেন। চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় আড়াই লাখ টাকা দেনমোহরে ওই কিশোরীকে বিয়ে করতে রাজি হন তারাজুল। এছাড়া তার যাবতীয় চিকিৎসা খরচ তারাজুলের বাবাকে বহন করার সিদ্ধান্ত দেন চেয়ারম্যান।

তারাজুলের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, তাদের প্রেমের বিষয়টি আমরা জানতাম না। গর্ভবতী হওয়ার পর ঘটনাটি জানতে পারি। এখন ধর্ষণ মামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে চেয়ারম্যান বিয়ের মাধ্যমে আপস করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ছেলে ও মেয়ে উভয়ই পরস্পর আত্মীয়। এছাড়া ছেলের বাবা পরিষদের গ্রাম পুলিশ। সে কারণে পরিষদে বসে বিয়ে করার শর্তে আপস করে দেওয়া হয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, এ ধরনের ঘটনা তার জানা নেই। ওই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরএইচ/এইচএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।