নির্মাণসামগ্রীর নিম্নমান, ভেঙে ফেলা হলো বিদ্যালয়ের ছাদ
নির্মাণসামগ্রী নিম্নমানের হওয়ায় ভেঙে ফেলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় চিলেকোঠার ছাদ।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ছাদটির সম্পূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঠিকাদার।
জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঢালাই কাজে ব্যবহৃত খোয়া নিম্নমানের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মিক্সার মেশিন ছাড়াই হাতে ঢালাই ও ভাইব্রেটর মেশিন পরিলক্ষিত না হওয়ার কথা বলা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিত কুমার দাস অভিযোগ করে বলেন, কাউকে না জানিয়ে দুই সপ্তাহ আগে ঠিকাদার ভবনের ছাদ ঢালাই শুরু করেন। শুরু থেকেই কাজ নিয়ে টালবাহানা করে আসছিলেন তারা। কাজের পরিকল্পনা ও নকশা চাইলেও ঠিকাদার দেননি। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাউকে না জানিয়ে ছাদ ঢালাইয়ের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে মৌখিকভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেননি।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন ২০১৯-২০ অর্থবছরে নাসিরনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে স্কুলটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। জমির-জুলিয়া ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজটি করছে।

ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কাউকে না জানিয়ে ছাদ ঢালাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদার মো. নিক্সন বলেন, অফিস থেকে ছাদটি ভেঙে নতুনভাবে করার জন্য একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
ভবন নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসহাক মিয়া জানান, আমাদের না জানিয়ে ঠিকাদার ছাদ ঢালাই করে। পরে উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারকে ছাদ ভেঙে নতুনভাবে করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আমি নতুন এসেছি। ছাদধসের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হালিমা খাতুন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছাদটি ভেঙে নতুনভাবে করতে ঠিকাদারকে বলেছি।
** সংশোধিত
আবুল হাসনাত মো. রাফি/আরএইচ/এএসএম