মাটিরাঙ্গার পাঁচ গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ালো প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার ধলিয়া খালের ওপারেই মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর ও বড়ঝালাসহ পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা এলেই খালের ওপারের বাসিন্দারা মাটিরাঙ্গার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এই খালের ওপরে সেতু নির্মাণ প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে কয়েক দশক ধরে। ফলে দুর্ভোগ কমেনি এই এলাকার মানুষের।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েক বছর আগে নিজেদের প্রচেষ্টায় নিজেরাই কাঠের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের পাঁচ গ্রামের মানুষ। সম্প্রতি প্রবল বর্ষণে সেই কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ফের দুর্ভোগে পড়েন তারা।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর প্রকাশ পেলে সেতুটি নির্মাণে এগিয়ে আসে প্রশাসন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অ.দা) মো. হেদায়েত উল্যাহকে দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার অর্থায়নে জনদুর্ভোগ লাঘবে কাঠের ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউএনও মো. হেদায়েত উল্যাহ। এর ৩০ দিনের মাথায় মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সেতুটি নির্মাণ শেষে ফের জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘ ভোগান্তি লাঘব হয়েছে পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মিজানুর রহমান খোকন বলেন, বছরের ১২ মাসই ধলিয়া খালে পানি থাকে। ফলে ভোগান্তি মানুষের পিছু ছাড়ে না। এর মধ্যে বৃষ্টিতে সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। তিনি সেতুটি নির্মাণে এগিয়ে আসায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘবে ধলিয়া খালের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

ইউএনও মো. হেদায়েত উল্যাহ বলেন, সেতু ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক মহোদয় নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে জনস্বার্থে সেতুটি নির্মাণের নির্দেশ দেন। নির্মাণ শেষে আজ তা জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ধলিয়া খালের ওপর পাকা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]