ঝিনাইদহে বেড়েছে নিউমোনিয়ার প্রকোপ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঝিনাইদহে বেড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়া, জ্বর ও শ্বাসতন্ত্র-জনিত রোগের প্রকোপ। প্রতিদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে গড়ে ৩০-৩৫ জন শিশু এসব জটিলতা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে শয্যা আর জনবল সংকটে বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের আট শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছে ১১৫ জন শিশু। যাদের অধিকাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অন্য সময় হাসপাতালে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শিশু ভর্তি থাকলেও বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ শিশু ভর্তি হচ্ছে।

Jhenaidah-(4).jpg

জানা যায়, শুধু সদর হাসপাতাল নয়, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে জেলার অন্য হাসপাতালগুলোতেও। ৬ থেকে ১৮ মাস বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শয্যার বিপরীতে কয়েকগুণ বেশি রোগী থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সরাও।

সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের লতিফ মিয়া বলেন, ‘আমি আটদিন হাসপাতালে আমার ছাওয়ালকে নিয়ে আইছি। প্রথমে ঠাণ্ডা আর কাশি হইছিল। হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার বলছে ডাবল নিউমোনিয়া হইছে। কফ উঠাচ্ছি আর ওষুধ খাওয়াচ্ছি। আল্লাহর রহমতে এখন একটু ভালো।’

শৈলকূপা উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রাম থেকে আসা ২ মাস বয়সী রাবেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাল বিকালে আইচি। ডাক্তার এখনও আসিনি। রাতে মাত্র একজন নার্স আর আয়া ছিল। ওষুধ দিয়া হইছে। এখন বাচ্চা ভালো আছে।’

Jhenaidah-(4).jpg

সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামের হাবিল নামে এক শিশুর স্বজন বলেন, ‘এই হাসপাতালে প্রতিদিন একশ থেকে দেড়শ রোগী থাকছে। কিন্তু একজন মাত্র ডাক্তার। এত রোগীকে একজন ডাক্তার কি করে চিকিৎসা দেবে। সেও তো মানুষ। হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছাড়াও নিচে আবার আউটডোরে রোগী দেখতে হয়। এভাবে তো চিকিৎসা দেওয়া যায় না। এই জন্য হাসপাতালে জরুরি আরও ডাক্তার আর নার্স দরকার।’

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ গরম আবার হঠাৎ ঠাণ্ডার কারণে এই সমস্যা হচ্ছে।

Jhenaidah-(4).jpg

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ছোট বাচ্চাদের প্রতি বেশি খেয়াল রাখতে হবে। তাদের যেন শরীর না ঘামে বা অতিরিক্ত ঠাণ্ডা না লাগে। বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সুষম খাবার দিতে হবে’।

হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আলাউদ্দিন জানান, শিশু ওয়ার্ডের জন্য দুইজন চিকিৎসক ছিলেন। কিছুদিন আগে একজন চিকিৎসক প্রশিক্ষণের জন্য চলে গেছেন। আর একজন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন। হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও কষ্ট হচ্ছে। জনবল ও চিকিৎসকের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই এ সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এফআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]