যমুনা সার কারখানার সিবিএ সভাপতি-সম্পাদকের ওপর হামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

চাকরি থেকে বাদ দেওয়া ও বেতন বন্ধ হওয়ায় তৃতীয় দিনে বিক্ষোভ করেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া শ্রমিকরা।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় কারখানায় ঢুকতেই আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

জেএফসিএল সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দৈনিক ৩৭৫ টাকা হাজিরা (কাজ নাই তো মজুরি নাই) ভিত্তিক ৪২৫ জন শ্রমিককে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক সরবরাহের কার্যাদেশ পায় সরিষাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডের মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত জনবলের বাইরে অতিরিক্ত আরও ৬১ জন শ্রমিককে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও মাসের পর মাস বেতন দেওয়ায় কারখানায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান করপোরেশনের (বিসিআইসি) অডিটে তাদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মঈনুল হক ২৯ আগস্ট ৬১ জন শ্রমিককে বাতিল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পত্র দেন।

একইসঙ্গে বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিক পরিচয়পত্র ব্যতীত কারখানায় প্রবেশের আদেশ ও ড্রেসকোড অমান্যসহ দিনের পর দিন দায়িত্বে অবহেলা করে আসার কথা উল্লেখ করে ওই পত্রে ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়।

এদিকে, পত্র পাওয়ার পর ঠিকাদারের লোকজন ও বাতিল হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে তারা কারখানা এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি আব্দুস সালাম ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান প্রশাসনিক ভবনের সামনে আসামাত্র বিক্ষুব্ধরা তাদের গতিরোধ করে মারধর করেন।

সিবিএর সেক্রেটারি আব্দুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, আন্দোলন চলাকালে সকাল সাড়ে ১০টায় আমি এবং সেক্রেটারি কারখানার প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করছিলাম। এ সময় হঠাৎ ১০-১২ জন বিক্ষোভকারী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার চোখে জখম হয়। তারা আমার মানিব্যাগসহ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে কারখানার কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ করেছি। তারা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সুপারিশ ও মৃত্যুজনিত শূন্যপদের বিপরীতে অতিরিক্ত ৬১ জনকে খণ্ডকালীন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কারখানার নিয়মে অনুমোদন রয়েছে ৪২৫ জনের। তাই অতিরিক্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর রকিবুল হক বলেন, যমুনা সার কারখানার শ্রমিকদের বাতিল করায় বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]