বাল্যবিয়ের শিকার এক স্কুলের অর্ধশতাধিক ছাত্রী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৮:১৯ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনায় বন্ধ থাকায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। অভাব-অনটনসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বজনরা তাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হন বলে জানান স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালে স্থাপিত হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৫৫৬ জন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করে ৩৫৯ জন। সরকারি ঘোষণার পর বিদ্যালয় খুললেও দুই শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুলে উপস্থিত হয়। বাকিরা অনুপস্থিত থাকে। ক্লাস ও বোর্ডে অ্যাসাইমেন্ট নম্বর পাঠানোর কারণে ছাত্রীদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হুগড়া ইউনিয়নের কাজী আবুল হাসেম বলেন, হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়সহ অনেক স্কুলের ছাত্রীদের বাল্যবিয়ে হয়েছে বলে শুনেছি। বাল্যবিয়ের শিকার ছাত্রীদের পরিবার বিভিন্ন এলাকার কাজী দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। অনেকে আবার রেজিস্ট্রি ছাড়াই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বলেও বলেন তিনি।

হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আল মামুন জুয়েল বলেন, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছাত্রীর মধ্যে প্রায় ৬০ জনের বিয়ে হয়ে গেছে। এছাড়া ৩০ জনের বেশি ছাত্র পরিবারের অভাব মেটাতে বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে।

ইউনিয়নের বয়ড়া গ্রামের এক অভিভাবক জানান, আমরা খুবই দরিদ্র। কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। এ কাজ করে মেয়ের লেখাপড়া চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। এছাড়াও মেয়েটি বড় হয়ে যাচ্ছে বলেই প্রবাসী এক পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি।

হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিন্টু মিয়া বলেন, গ্রামগুলোতে গোপনীয়তার সঙ্গে বাল্য বিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে বিয়ের কোনো তথ্যই জানেন না।

হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেন, স্কুল বন্ধ থাকাসহ অভাব-অনটনে অনেক অসচেতন অভিভাবক তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ওই বিয়েগুলো ঠেকানো যেতো।

জেলার মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, বাল্যবিবাহ আইনের পরিপন্থী। করোনাকালীন সময়ে এ বাল্যবিবাহের প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। এ সময়ে জেলার অধিকাংশ স্কুলেই ছাত্রীদের বিয়ের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জানতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানমের মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরিফ উর রহমান টগর/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]