৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিয়ের ১৫ মাস পর হলো নিবন্ধন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পিরোজপুর
প্রকাশিত: ০৯:২১ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ভুয়া বিয়ে করে যৌতুকের দাবিতে খালেদা আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রনি মোল্লা (২৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাই রবিউল ইসলাম ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশের সহায়তায় বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শেখমাটিয়া গ্রামে এমনই ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৩ জুন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সমনকাঠী গ্রামের মাহাতাব শেখের মেয়ে খালেদা আক্তারের সঙ্গে নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া গ্রামের মোতালেব মোল্লার ছেলে রনি মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রনি মোল্লা ও তার পরিবার যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেলসহ ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র দাবি করেন। যৌতুক না দিলে তারা খালেদা আক্তারকে নির্যাতন করতে থাকেন।

কয়েকদিন আগে বাবার বাড়ি চলে যান খালেদা আক্তার। পরে অসুস্থতার অজুহাতে শাশুড়ি তাকে আবার নিয়ে যান। এবারও তার ওপর নির্যাতন চলতে থাকে এবং সাদা স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নিয়ে ঘরে আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খালেদা আক্তারের বাবা ও দুই ভাই রনি মোল্লার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা খালেদাকে আটকে রাখা অবস্থায় পান। এ সময় দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে খালেদার বাবা মাহাতাব শেখ জামাতা রনি মোল্লার কাছে মেয়ের বিয়ের কাবিনের কপি দেখতে চান। রনি মোল্লা জানান, কোনো কাবিন হয়নি। এ নিয়ে রনি মোল্লা তার শ্বশুর ও দুই শ্যালককে মারধর করেন।

পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানান ভুক্তভোগীর ভাই রবিউল ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগীর পরিবার ও তার স্বামী রনি মোল্লাকে নাজিরপুরে এনে বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।

তবে অভিযুক্ত রনি মোল্লা যৌতুক ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি আর দাবি করেন, তার স্ত্রী খালেদা খাতুন স্বেচ্ছায় সাদা স্ট্যাম্পে সই দিয়েছিলেন।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]