এহসান সোসাইটির চেয়ারম্যানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে যশোরে মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

যশোরে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এহসান এস সোসাইটির চেয়ারম্যান মুফতি আবু তাহের নদভীসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা করেন যশোর এহসান ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম ইমন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রতারক, ধাপ্পাবাজ, ইসলামি পোশাক ব্যবহার করে বিভিন্ন বয়ানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের ভুল বুঝিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তাদের মূল কাজ। আর তারই অংশ হিসেবে যশোর শহরের চৌরাস্তার শরিফ মার্কেটে এহসান সোসাইটি, এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নাম দিয়ে এবং মুনাফা দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা।

শুধুমাত্র যশোরের কয়েকজন লোকের কাছ থেকেই ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাউকে মুনাফা দেয়নি। তাদের কাছে আসল টাকা ফেরত চেয়েও কেউ পাননি।

মামলার বাদী মফিজুল ইসলাম ইমন বলেন, আমার বাবা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন মসজিদে। ২০১১ সালের শেষ দিকে বাবা জমি বিক্রি করে ১৮ লাখ টাকা পান। সেই টাকা ইসলামি ব্যাংকে রাখেন। বিষয়টি জানতেন সেখানকার এক খাদেম। তিনি বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হন, ব্যাংকে টাকা রাখলে পরকাল বরবাদ হয়ে যাবে। বরং আলেম-ওলামাদের তৈরি প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখলে ব্যাংকের চেয়েও বেশি লভ্যাংশ এবং মেয়াদ শেষে গচ্ছিত টাকার দ্বিগুণ পাওয়া যাবে। বাবা তার কথায় প্রভাবিত হন এবং এহসানে ১৮ লাখ ছয় হাজার টাকা রাখেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথম দুই বছর মাসিক ১৬০০ টাকা (লাখে) দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে শুরু হয় তাদের টালবাহানা। আমার মতো আরও লোকজনদের মুনাফা দেয়নি তারা। ফলে তাদের কাছে আসল টাকা ফেরত চেয়েও কেউ পাননি। আমাদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় আড়াই কোটি টাকার এহসান এস সোসাইটির চেয়ারম্যানসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, এহসান গ্রুপের টাকা আত্মসাতের ঘটনাটি বর্তমানে আলোচিত। এই গ্রুপের শীর্ষ এক কর্মকর্তা ঢাকায় আটক হয়েছেন। যশোরের অনেক মানুষ এই গ্রুপের আমানত রেখে ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তা রেকর্ড করে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মিলন রহমান/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]