বেনাপোলে বেড়েই চলেছে ট্রাকের সারি, তীব্র হচ্ছে যানজট

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় গত ২০ দিন ধরে রপ্তানি পণ্যবোঝাই হাজার হাজার ট্রাক অবস্থান করছে বেনাপোল বন্দরসহ আশেপাশের প্রধান সড়কে। সংকীর্ণ সড়কে পাশাপাশি ট্রাক রেখে দেওয়ায় বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের। এতে বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেনাপোল স্থলবন্দরের চেকপোস্ট, রপ্তানি গেট, টার্মিনাল, বেনাপোল পৌর টার্মিনাল, বন্দর, কাস্টমস এলাকা, বাজারসহ যশোর-বেনাপোলের প্রধান সড়ক হয়ে শার্শা উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। এতে এলাকাবাসী যেমন ভোগান্তি পোহাচ্ছে তেমনি যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়ছেন পাসপোর্টধারী যাত্রীরাও।

জানা যায়, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে জায়গা সঙ্কটের কারণ দেখিয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক কম প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই সঙ্কট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এ বন্দর দিয়ে ভারত প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ ট্রাক পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করছে। কিন্তু বাংলাদেশি পণ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা বরাবরই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

jagonews24

তারা আরও জানান, এর আগে ভারত ১৫০ থেকে ২০০ ট্রাক রপ্তানি পণ্য গ্রহণ করলেও বর্তমানে নিচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ ট্রাক। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা থাকলেও প্রশাসনের কোন কর্তাব্যক্তি তা নিরসনে এগিয়ে আসেননি বলেও অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দফায় দফায় আলোচনা করেও কোনো সুরাহা করা যায়নি যানজটের। প্রতিদিন একেকটি ট্রাককে পণ্য পরিবহনের ভাড়ার পাশাপাশি ১৬০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে। সময়মতো গন্তব্যে যেতে না পারায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এদেশের রপ্তানিকারকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, আটকে থাকা রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাকের কারণে বিভিন্ন সড়কে রিকশা-ভ্যানও যাতায়াত করতে পারছে না। অনেকে পায়ে হেটে চেকপোস্টে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী, নারী ও শিশুরা। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সও যাওয়ার উপায়ও নেই। এ অবস্থায় বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে রপ্তানি বাণিজ্যের সময় রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তবু সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি।

জানা যায়, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ওপর পণ্যবোঝাই প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাক ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। জায়গার অভাবে বেনাপোল বন্দরের অভ্যন্তরে ট্রাকগুলো যেমন রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তেমনি জায়গা না থাকায় ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর থেকে আমদানি পণ্যবোঝাই ট্রাকও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছে না। যানজট নিরসনের জন্য জরুরিভিত্তিতে বেনাপোলে স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন ।

jagonews24

বেনাপোল ট্রাক-লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে সয়াবিনের ভুষি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য এবং গার্মেন্টস, সাবান, ব্যাটারি, গার্মেন্টস ঝুট ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। প্রতিদিন এসব পণ্য নিয়ে ২০০-২৫০ ট্রাক ভারতে প্রবেশের জন্য বেনাপোল বন্দরে আসছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মাত্র ১০০ ট্রাক গ্রহণ করছে। এতে ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক থেকে যাচ্ছে বন্দরেই। রপ্তানি পণ্যের এসব ট্রাক রাখার মতো টার্মিনাল বা স্থান বেনাপোল বন্দরে নেই। তাই বন্দরের আশপাশের শাখা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে ট্রাকগুলো। তাছাড়া বেনাপোল বন্দরে রপ্তানি পণ্যের ট্রাক রাখার কোনো টার্মিনালও নেই।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে পণ্য আমদানি বাড়ার পাশাপাশি পণ্য রপ্তানিও বেড়েছে দ্বিগুণ। শত শত পণ্য বোঝাই ট্রাক ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় বেনাপোল বন্দর, বন্দরের আশেপাশে ও প্রধান সড়কে অবস্থান করছে। এতে বন্দর এলাকায় আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে সম্প্রতি ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু ওপারের টার্মিনালে জায়গা না থাকায় তারা বেশি ট্রাক নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

মো. জামাল হোসেন/ এফআরএম/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]