পরকীয়া প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে মেয়েকে হত্যা করেন মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে আলোচিত নওরোজ আফরিন প্রিয়া হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার মা তাহমিনা সুলতানা রুমি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তার মায়ের পরকীয়া প্রেমিক আব্দুল হান্নানসহ আরও দুজন।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চাঁদপুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান নিহতের মা তাহমিনা সুলতানা রুমি।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন চাঁদপুর পুলিশ সুপার (এসপি) মিলন মাহমুদ।

এর আগে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মা নিজেই বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সন্দেহভাজন হিসেবে মায়ের পরকীয়া প্রেমিক আব্দুল হান্নানকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় জড়িত নিজের কথিত প্রেমিকের সঙ্গে আসা দুজনকে চেনেন না বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন নিহত প্রিয়ার মা তাহমিনা সুলতানা। এক্ষেত্রে আমরা তার কথিত প্রেমিক আব্দুল হান্নানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্য দুই আসামিকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করবো।শিগগির তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় শাহরাস্তির নিজ শয়নকক্ষ থেকে নওরোজ আফরিন প্রিয়ার ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, মা সুলতানার কথিত প্রেমিক হান্নানের বাড়ি তাদের বাড়ির পাশেই। প্রিয়ার বাবা ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার সুবাদে ছয় বছর আগে প্রিয়ার মায়ের সঙ্গে হান্নানের পরকীয়ার সম্পর্ক হয়। পরিবার ও এলাকার মানুষ বিষয়টি জানতে পারলে এ বিষয়ে একটি মামলাও করা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকটি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে প্রেমিক হান্নান বিদেশে পাড়ি জমান। এক মাস আগে তিনি আবার দেশে ফিরে আসেন।

নিহত প্রিয়া তার মা ও পরকীয়া প্রেমিক আব্দুল হান্নানকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন। পরে তিনি বিষয়টি তার বাবাকে জানিয়ে দেন। এ নিয়ে প্রিয়ার সঙ্গে তাহমিনা সুলতানা রুমি ও তার পরকীয়া প্রেমিক হান্নানের কলহ সৃষ্টি হয়। পরে তারা প্রিয়াকে হত্যা করেন।

নজরুল ইসলাম আতিক/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]