৯ দিন আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
ছবিতে অভিযুক্ত হাবিব খান

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে (২৬) অপহরণের পর টানা নয় দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় হাবিব খান নামে একজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে পার্শ্ববর্তী হাইমচর উপজেলার আলগী এলাকা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় জেলহাজতে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী গৃহবধূর মেডিকেল টেস্ট এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার জন্য তাকে চাঁদপুরে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত হাবিব খান বাবু উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের পুর্ব ধানুয়া গ্রামের ওয়ারিশ খায়ের বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। পেশায় তিনি একজন অটোবাইক চালক। তবে তিনি নিজেকে মানুষের কাছে একেক সময় একেক পরিচয় দিতেন। কৌশলে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মুঠোফোনে প্রেমের অভিনয় করে স্থাপন করতেন অবৈধ সর্ম্পক। এক পর্যায়ে পরকীয়ায় জড়াতেন। তাতে একাধিক নারীর সংসার ভাঙার ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্বিতীয় স্ত্রী শামছুন্নাহার বেগম জাগো নিউজকে জানান, তার স্বামী একাধিক বিয়ে করেছেন। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী। অত্যাচারের কারণে পাঁচ মাস আগে তিনি বাপের বাড়িতে চলে যান। তিনি তার স্বামীকে এ পথ থেকে সরাতে বহু চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি। এমনকি তিনি নিজে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া, রূপসা, প্রত্যাশী ও শরিয়তপুর জেলা থেকে অবৈধ কর্মে লিপ্ত অবস্থায় আটকের পর অর্থ দিয়ে তার স্বামীকে ছাড়িয়ে এনেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই গৃহবধূকে মাসখানেক আগে থেকে অভিযুক্ত হাবিব খান মোবাইল ফোনে বিরক্ত করে আসছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোভান গ্রামে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন ওই গৃহবধূ। বিষয়টি জানতে পেরে হাবিব তার এক সহযোগীকে নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ির পাশে ওঁৎ পেতে থাকে। ভোরে ওই গৃহবধূ হাঁটতে বের হলে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোবাইকে তুলে নিয়ে যান এবং হাইমচরের আলগী বাজার এলাকায় একটি ঘরে আটকে রাখে।

অভিযুক্ত হাবিব নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে হুমকি দিতেন। ঘটনা প্রকাশ করলে তার বাবা-মাসহ পরিবারের লোকদের মামলায় জড়িয়ে দেবে বলে ভয়-ভীতি দেখায় এবং একপর্যায়ে গৃহবধূকে নয় দিন ওই ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূ বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

পরে বিষয়টি পরিবারের লোকদের জানালে ভুক্তভোগীর বাবা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ মামলা করেন। এরপর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হাবিব খানকে হাইমচর উপজেলার আলগী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করার পর অভিযুক্ত হাবিব খানকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। একইদিন ভুক্তভোগী গৃহবধূকে মেডিকেল টেস্ট ও ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্য চাঁদপুরে পাঠানো হয়েছে।

নজরুল ইসলাম আতিক/এমকেআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]