চুয়াডাঙ্গায় সাড়া ফেলেছে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

সচরাচর গাড়িতে বা যে কোনো যানবাহনে ‘বাবা-মায়ের দোয়া’ পরিবহন লেখা চোখে পড়লেও এর ব্যতিক্রম দেখা গেলো চুয়াডাঙ্গা শহরে। ইজিবাইকের (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) পেছনে লেখা ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’। ব্যতিক্রমী নামের কারণে এরই মধ্যে শহরে বেশ সাড়া ফেলেছে এ পরিবহন।

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাসুম মিয়া (৩০)। তার মালিকানাধীন ১১টি ইজিবাইক ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নামে চুয়াডাঙ্গা শহরে চলাচল করছে। তিনি নিজে একটি চালান। বাকি ১০টি ভাড়ায় দিয়েছেন।

মাসুম মিয়া বলেন, তিনি ১২ বছর মালয়েশিয়ায় ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন। মালয়েশিয়ায় ১২ বছর থাকা অবস্থায় তিনি যে টাকা আয় করেছেন, দেশে ফিরে সে টাকা দিয়ে ১১টি ইজিবাইক কিনেছেন। বর্তমানে ১১টি ইজিবাইক থেকে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে বাবা-মাসহ তিন সদস্যের পরিবারের খুব ভালোভাবে চলে যায়। বেশকিছু টাকা অবশিষ্টও থাকে।

অবাক করার বিষয় হলো পরিবহনে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ লেখা হলেও ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত মাসুম মিয়া। অবিবাহিত হয়েও নিজের মালিকানাধীন ১১টি ইজিবাইকের পেছনে কেন ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ লিখেছেন, জানতে চাইলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, “ইজিবাইকগুলো কেনার পর যে নামই রাখতে গিয়েছি, পরে দেখেছি ওই নামে কোনো না কোনো পরিবহন রয়েছে। পরে বন্ধু এবং স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নামটি দিয়েছি।”

‘জন্মদাতা বাবা-মায়ের পরই বউ হলো সবচেয়ে আপন এবং ভালোবাসার মানুষ। বিয়ের পর সংসারের ভালো-মন্দ আমার পরই বউ-ই দেখাশোনা করবে’—যোগ করেন মাসুম মিয়া।

বিদেশে যাওয়ার আর ইচ্ছা নেই জানিয়ে মাসুম মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, বিদেশে গিয়ে বিয়ের বয়স প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেছে। এবার বিয়ে করে সংসারি হতে চাই। বাবা-মায়ের পছন্দের পাত্রীকে শিগগির বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করবো। বিয়ে করে বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বাকি জীবন দেশে কাটিয়ে দিতে চাই।

সালাউদ্দীন কাজল/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]