মালিকানা দাবি করে স্কুলমাঠে সবজি চাষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০২:১৬ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০২১

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ২ নম্বর ছোটখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হালচাষ করা হয়েছে। মালিকানা দাবি করে স্থানীয় দুই ব্যক্তি জমি দখলে নিতে সেখানে শাক-সবজি রোপণ করে দিয়েছেন বেড়া।

শনিবার (২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল মাঠের দুই দিকে দুটি বড় অংশজুড়ে হালচাষ করা হয়েছে। দুই অংশের মাঝখানে রাখা হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা।

স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, ১৯৪৫ সালে স্থাপিত হয় স্কুলটি। পরে ১৯৯৫ সালে নতুন করে সংস্কার করা হয়। সে সময় বাবার ১৭ শতাংশ জমি স্কুলে দান করেন এবং তা স্কুলের নামে এককভাবে লিখে দেন কছির উদ্দীন নামের জনৈক ব্যক্তি। প্রায় ২৬ বছর পর স্কুলের ওই জমিতে নিজেদের ওয়ারিশ দাবি করে তা দখলের চেষ্টা চালায় দাতা কছির উদ্দীনের ভাই আজগর আলী ও আব্দুল জব্বার।

এ বিষয়ে আজগর আলী জাগো নিউজকে বলেন, বাবার জমির মালিক বড়ভাই (কছির উদ্দীন) একা হতে পারে না। বাবার নামে ১৭ শতক জমি বড় ভাই একা স্কুলের নামে দলিল করে দিয়েছেন। ওয়ারিশ হিসেবে সেখানে আমরাও অংশীদার। আমরা চার ভাই এক বোন। কিন্তু আমাদের থেকে কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। তাই বড় ভাইয়ের অংশ রেখে আমাদের অংশের হালচাষ করেছি। তবে আমরা স্কুলে যাওয়া আসার রাস্তা বন্ধ করিনি।

jagonews24

কছির উদ্দীনের আরেক ছোট ভাই আব্দুল জব্বার জাগো নিউজকে বলেন, আমার অংশ থেকে তিন শতক জমি মাদরাসায় দিয়েছি। বড়ভাই দলিল দিলেই তিনি মালিক হবেন তা নয়। তবে এতে বাচ্চাদের খেলার মাঠ নষ্ট হয়েছে। বাচ্চাদের খেলার মাঠ প্রয়োজন, সরকার সে ব্যবস্থা করুক।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নবাব আলী মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, স্কুলের ওই জায়গায় একটি ফ্ল্যাট সেন্টার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ খেলার মাঠে হালচাষ করে সবজি রোপণ করেন স্থানীয় অজগর আলী ও তার ছেলেরা। বিষয়টি তৎক্ষণিক উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তাদের নির্দেশনা অনুসারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আজগরদের ওয়ারিশের বিষয়টি সঠিক জানিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, তার বাবার তো আরও অনেক জমি আছে। তার বড় ভাই একটি অংশ স্কুলের জন্য দিয়েছে, তারা অন্য জায়গা থেকে তা পুষিয়ে নিতে পারে। এ জন্য স্কুলের খেলার মাঠ দখল করবে তা মেনে নেওয়া যায় না।

jagonews24

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য হাসান আলী সরকার জাগো নিউজকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সব সদস্যদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক মিটিং করেন। মিটিংয়ে আজগরদের বিরুদ্ধে তিনি মামলার কথা বলেন। আমি বললাম, আজগর আলী তার বাবার সম্পত্তি পায়। এজন্য হয় তাকে জমি বদল দিতে হবে, নয়তো তার কাছ থেকে জমি লিখে নিতে হবে। আমি কেন না প্রস্তাব দিলাম সে জন্য প্রধান শিক্ষক আমার উপরে চড়াও হন এবং বলেন আমাকে মামলার প্রধান আসামি করবে।

ডিমলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার দাস জাগো নিউজকে বলেন, যে জমিটা অনেক বছর ধরে স্কুলের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে তা হঠাৎ কেউ দাবি করলেই ছেড়ে দেওয়া যায় না। প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছি। এ মুহূর্তে আমি ছুটি থাকলেও, আইনি সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]